র্যাব-১ কার্যালয়ের কথিত গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’ পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে এই স্থাপনার একটি কক্ষে আটকে রাখার এবং পরে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার দাবি, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে রাখা হতো এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো।
তিনি বলেন, বিচারকদের সরেজমিনে ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে সংরক্ষণ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হবে।
আমিনুল ইসলাম আরও দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ওই স্থাপনায় আটকে রাখার এবং পরে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল আগামী শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, সংবিধান ও প্রচলিত আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান থাকলেও, কথিত এসব গোপন আটককেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। তার দাবি, অবৈধ আটক, গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার আলামত পাওয়া গেছে। প্রমাণ নষ্ট বা গোপনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ভূমিকাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















