ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ছাত্রদল না থাকলে জামায়াত-শিবিরকে পিটিয়ে আবারও গুপ্ত বানিয়ে দেবে ছাত্রলীগ: রাশেদ খাঁন আমার রিসার্চের সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান: শিক্ষামন্ত্রী ২ বছরে রুপির বিপরীতে আরও শক্তিশালী হয়েছে টাকা স্ত্রী গৌরী পাশে থাকলেও সহকারী পূজার ওড়নায় মুখ মুছলেন শাহরুখ খান হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিভে গেল নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রাণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয় ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখনই দেশে আসেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী লঞ্চের ভাড়া বাড়ল, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিএনপির কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদবিরোধী দলে মধ্যে ফাটল ধরেছে: জামায়াতে আমির থাইল্যান্ড ভেঙ্গে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

ভারতে নেওয়ার আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন টিএফআই সেলে: চিফ প্রসিকিউটর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে

র‍্যাব-১ কার্যালয়ের কথিত গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’ পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে এই স্থাপনার একটি কক্ষে আটকে রাখার এবং পরে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার দাবি, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে রাখা হতো এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো।

তিনি বলেন, বিচারকদের সরেজমিনে ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে সংরক্ষণ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হবে।

আমিনুল ইসলাম আরও দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ওই স্থাপনায় আটকে রাখার এবং পরে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল আগামী শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, সংবিধান ও প্রচলিত আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান থাকলেও, কথিত এসব গোপন আটককেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। তার দাবি, অবৈধ আটক, গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় তদন্তাধীন রয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার আলামত পাওয়া গেছে। প্রমাণ নষ্ট বা গোপনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ভূমিকাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদল না থাকলে জামায়াত-শিবিরকে পিটিয়ে আবারও গুপ্ত বানিয়ে দেবে ছাত্রলীগ: রাশেদ খাঁন

ভারতে নেওয়ার আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন টিএফআই সেলে: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

র‍্যাব-১ কার্যালয়ের কথিত গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’ পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে এই স্থাপনার একটি কক্ষে আটকে রাখার এবং পরে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার দাবি, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে রাখা হতো এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো।

তিনি বলেন, বিচারকদের সরেজমিনে ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে সংরক্ষণ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হবে।

আমিনুল ইসলাম আরও দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ওই স্থাপনায় আটকে রাখার এবং পরে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল আগামী শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, সংবিধান ও প্রচলিত আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান থাকলেও, কথিত এসব গোপন আটককেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। তার দাবি, অবৈধ আটক, গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় তদন্তাধীন রয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার আলামত পাওয়া গেছে। প্রমাণ নষ্ট বা গোপনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ভূমিকাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।