ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

এবার রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন জামায়াত আমীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

এবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দলীয় জোট। এরপর এবার দাবি আদায়ে আন্দোলন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদকে ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু আন্দোলন ছাড়া আমাদের এখন আর কোনো পথ নেই। 

বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়। তবে বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণভোটে জনগণের কাছে সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য রায় চাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, আমরা তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যদি সদিচ্ছা থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই সংস্কারভিত্তিক হতে হবে। জামায়াত আমীর বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিলকমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি বলেছিলাম, এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে। তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। স্পিকার তাকে পরদিন কথা বলার সুযোগ দেন।

বিরোধী দলীয় নেতা জানান, পরদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান আলোচনার সিদ্ধান্ত কী হয়েছে। জবাবে স্পিকার অতীতের মূলতবি প্রস্তাবগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র তিনটি গৃহীত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, আলোচনা দিয়েই শেষ হয়েছে। এতে গভীর হতাশা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম, সংকট সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন। শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে। আমরা ওই নোটিশেরও প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছি। জামায়াত আমীর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোট হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এমন হলো, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিল, সবাই ভোট চেয়েছিল, অথচ পরে এসে সেটিকে অগ্রাহ্য করা হলো। এর মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত ভিত্তিজনগণের রায়কেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো। কিন্তু, তা না হওয়ায় এখন তাদের সামনে একমাত্র পথজনগণের কাছে ফিরে যাওয়া। আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করব। শফিকুর রহমান এসময় বলেন, আশা করি, অতীতের মতো এবারও জনগণ আমাদের পাশে থাকবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে। তবে, আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই বললেও জামায়াতে ইসলামী তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে একত্রে বসে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।  

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

এবার রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন জামায়াত আমীর

আপডেট সময় ১০:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

এবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দলীয় জোট। এরপর এবার দাবি আদায়ে আন্দোলন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদকে ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু আন্দোলন ছাড়া আমাদের এখন আর কোনো পথ নেই। 

বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়। তবে বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণভোটে জনগণের কাছে সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য রায় চাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, আমরা তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যদি সদিচ্ছা থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই সংস্কারভিত্তিক হতে হবে। জামায়াত আমীর বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিলকমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি বলেছিলাম, এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে। তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। স্পিকার তাকে পরদিন কথা বলার সুযোগ দেন।

বিরোধী দলীয় নেতা জানান, পরদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান আলোচনার সিদ্ধান্ত কী হয়েছে। জবাবে স্পিকার অতীতের মূলতবি প্রস্তাবগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র তিনটি গৃহীত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, আলোচনা দিয়েই শেষ হয়েছে। এতে গভীর হতাশা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম, সংকট সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন। শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে। আমরা ওই নোটিশেরও প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছি। জামায়াত আমীর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোট হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এমন হলো, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিল, সবাই ভোট চেয়েছিল, অথচ পরে এসে সেটিকে অগ্রাহ্য করা হলো। এর মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত ভিত্তিজনগণের রায়কেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো। কিন্তু, তা না হওয়ায় এখন তাদের সামনে একমাত্র পথজনগণের কাছে ফিরে যাওয়া। আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করব। শফিকুর রহমান এসময় বলেন, আশা করি, অতীতের মতো এবারও জনগণ আমাদের পাশে থাকবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে। তবে, আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই বললেও জামায়াতে ইসলামী তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে একত্রে বসে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।