ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুরন্ত ফ্রান্সকে হারানোর কঠিন মিশনে সুইডেন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুলে ধন্যবাদ দিলেন আমির হামজা কর্ণফুলীতে ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণ, ৬ নাবিক দগ্ধ আনচেলত্তি ফ্যাক্টরেই বিশ্বকাপে এক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এড়াল ব্রাজিল জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ, আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও তোমাদের ভালোবাসি‘ জার্মান সেই গণিতবিদকে এক হাত নিলেন নেইমার যাঁরা বাংলাদেশ চাননি, তাঁদের কেন রাষ্ট্রপতি–প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন: বিএনপিকে পরওয়ার শেখ পরিবারের ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় সিনেট থেকে ডাকসু নেতাদের ওয়াকআউট সংসদে ‘ঋণখেলাপি’ প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত এমপির প্রশ্ন, যা বললেন স্পিকার

বাবার মৃত্যুর খবরে ফোন বন্ধ করে দিলেন ছেলে, লাশ নেয়নি কেও!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • ২৬০২ বার পড়া হয়েছে

‘ভাই, আমি কবর খুঁড়ছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’- এভাবেই বলছিলেন মো. আজহার উদ্দিন। অপরিচিত এক ব্যক্তির কবর খোঁড়ার কাজ করছিলেন তিনি। মূলত এ বিষয়ে জানতে আজহার উদ্দিনকে ফোন দিয়েছিলেন এ প্রতিবেদক। আজহার উদ্দিনের মতো আরো কয়েকজন মো. ইব্রাহিম নামে ষাটোর্ধ এক ব্যক্তির দাফনের জন্য কবর খুঁড়ছিলেন। অথচ তার মৃত্যুর খবর শুনে এড়িয়ে যান ছেলে।

লাশ গ্রহন করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এমনকি দাফন কাজেও শরিক হতে চাননি। এক পর্যায়ে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ইব্রাহিম নামে ওই ব্যক্তি গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। অনেক চেষ্টার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। বিষয়টি তার একমাত্র ছেলে ইসরাফিল সিয়ামকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি লাশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত ‘বাতিঘর’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইব্রাহিমের লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. ওহিদুর রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘ওই ব্যক্তির কাছে দিনাজপুর এলাকার কয়েকজনের ভিজিটিং কার্ড পাওয়া যায়। ওইসব নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে পারি, সেখানে তিনি একটি মাদরাসায় চাকরি করতেন। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায় ওনার এক ছেলে আছে। ওই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাশ গ্রহন কিংবা দাফনে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ করে দেন।’

ছেলের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মূলত হিন্দু ধর্মালম্বী ছিলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর তিনি প্রায় ৩০ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই নারীর গর্ভে এক ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু ওই নারী ছেলেসহ আরেকজনকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে ওই নারী আর ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

এদিকে বাতিঘর নামে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আজহার উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে মূলত বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়। প্রতিষ্ঠার চার বছরে ২০০ জনের লাশ দাফন করেছি। কিন্তু ইব্রাহিম নামে ওই ব্যক্তির ছেলে থাকা সত্বেও তাকে এভাবে দাফন করার বিষয়টি আমাদেরকে খুব কষ্ট দিয়েছে। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা লাশ দাফনের উদ্যোগ নেই। মঙ্গলবার বিকেলে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। তবে ওই ব্যক্তির পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে ছিলেন না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুরন্ত ফ্রান্সকে হারানোর কঠিন মিশনে সুইডেন

বাবার মৃত্যুর খবরে ফোন বন্ধ করে দিলেন ছেলে, লাশ নেয়নি কেও!

আপডেট সময় ০১:২১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

‘ভাই, আমি কবর খুঁড়ছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’- এভাবেই বলছিলেন মো. আজহার উদ্দিন। অপরিচিত এক ব্যক্তির কবর খোঁড়ার কাজ করছিলেন তিনি। মূলত এ বিষয়ে জানতে আজহার উদ্দিনকে ফোন দিয়েছিলেন এ প্রতিবেদক। আজহার উদ্দিনের মতো আরো কয়েকজন মো. ইব্রাহিম নামে ষাটোর্ধ এক ব্যক্তির দাফনের জন্য কবর খুঁড়ছিলেন। অথচ তার মৃত্যুর খবর শুনে এড়িয়ে যান ছেলে।

লাশ গ্রহন করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এমনকি দাফন কাজেও শরিক হতে চাননি। এক পর্যায়ে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ইব্রাহিম নামে ওই ব্যক্তি গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। অনেক চেষ্টার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। বিষয়টি তার একমাত্র ছেলে ইসরাফিল সিয়ামকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি লাশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত ‘বাতিঘর’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইব্রাহিমের লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. ওহিদুর রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘ওই ব্যক্তির কাছে দিনাজপুর এলাকার কয়েকজনের ভিজিটিং কার্ড পাওয়া যায়। ওইসব নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে পারি, সেখানে তিনি একটি মাদরাসায় চাকরি করতেন। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায় ওনার এক ছেলে আছে। ওই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাশ গ্রহন কিংবা দাফনে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ করে দেন।’

ছেলের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মূলত হিন্দু ধর্মালম্বী ছিলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর তিনি প্রায় ৩০ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই নারীর গর্ভে এক ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু ওই নারী ছেলেসহ আরেকজনকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে ওই নারী আর ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

এদিকে বাতিঘর নামে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আজহার উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে মূলত বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়। প্রতিষ্ঠার চার বছরে ২০০ জনের লাশ দাফন করেছি। কিন্তু ইব্রাহিম নামে ওই ব্যক্তির ছেলে থাকা সত্বেও তাকে এভাবে দাফন করার বিষয়টি আমাদেরকে খুব কষ্ট দিয়েছে। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা লাশ দাফনের উদ্যোগ নেই। মঙ্গলবার বিকেলে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। তবে ওই ব্যক্তির পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে ছিলেন না।’