ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হতদরিদ্রের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ: সিংড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের প্রমাণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় হতদরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে সোহরাব হোসেন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কেজি চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

বরাদ্দের চাল উত্তোলন, বিতরণ হয়নি

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ সুকাশ ইউনিয়নের ২৪৭ জন দুস্থ নারীর জন্য মার্চ মাসের বরাদ্দ হিসেবে ৭ হাজার ৪১০ কেজি চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। কিন্তু ওই চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

পরবর্তীতে ১১ মার্চ চাল বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও মাস্টাররোল তৈরি করে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

উপকারভোগীদের অভিযোগ

সরেজমিনে সুকাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে অন্তত ২০ জন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মার্চ মাসের কোনো চাল পাননি। এছাড়া বিনামূল্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান জনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ২২০ টাকা সঞ্চয়ের নামে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার পরও তাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি এবং কোনো কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি।

ভুয়া স্বাক্ষরের অভিযোগ

অভিযোগ যাচাইয়ে বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে যান উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার। সেখানে অর্ধশত উপকারভোগীর কার্ডে ৩ ও ১১ মার্চ দুই দফা চাল বিতরণের ভুয়া টিপসই ও স্বাক্ষরের প্রমাণ পাওয়া যায়।

উপস্থিত নারীরা জানান, আগের রাতে চেয়ারম্যান তাদের কার্ড নিয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পরে মিথ্যা তথ্য দিতে চাপ দেন।

পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও হিসাব সহকারী পরিতোষ কুমার বলেন, মার্চ মাসের বরাদ্দ চাল বাস্তবে বিতরণ হয়নি এবং উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলা হয়নি।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের দাবি

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন,
‘অসুস্থ থাকায় চাল বিতরণ করা হয়নি, পরে বিতরণ করা হবে।’

তবে অভিযোগ প্রকাশ না করার জন্য তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

সিংড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোয়ারুল হাসান জানান, চেয়ারম্যান ৫ মার্চ ভিজিডি কর্মসূচির ৭.৪১০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার বলেন, চাল বিতরণ না হওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন,
চাল বিতরণ হয়নি—এমন প্রমাণ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হতদরিদ্রের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ: সিংড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের প্রমাণ

আপডেট সময় ০২:০৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় হতদরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে সোহরাব হোসেন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কেজি চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

বরাদ্দের চাল উত্তোলন, বিতরণ হয়নি

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ সুকাশ ইউনিয়নের ২৪৭ জন দুস্থ নারীর জন্য মার্চ মাসের বরাদ্দ হিসেবে ৭ হাজার ৪১০ কেজি চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। কিন্তু ওই চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

পরবর্তীতে ১১ মার্চ চাল বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও মাস্টাররোল তৈরি করে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

উপকারভোগীদের অভিযোগ

সরেজমিনে সুকাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে অন্তত ২০ জন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মার্চ মাসের কোনো চাল পাননি। এছাড়া বিনামূল্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান জনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ২২০ টাকা সঞ্চয়ের নামে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার পরও তাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি এবং কোনো কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি।

ভুয়া স্বাক্ষরের অভিযোগ

অভিযোগ যাচাইয়ে বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে যান উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার। সেখানে অর্ধশত উপকারভোগীর কার্ডে ৩ ও ১১ মার্চ দুই দফা চাল বিতরণের ভুয়া টিপসই ও স্বাক্ষরের প্রমাণ পাওয়া যায়।

উপস্থিত নারীরা জানান, আগের রাতে চেয়ারম্যান তাদের কার্ড নিয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পরে মিথ্যা তথ্য দিতে চাপ দেন।

পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও হিসাব সহকারী পরিতোষ কুমার বলেন, মার্চ মাসের বরাদ্দ চাল বাস্তবে বিতরণ হয়নি এবং উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলা হয়নি।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের দাবি

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন,
‘অসুস্থ থাকায় চাল বিতরণ করা হয়নি, পরে বিতরণ করা হবে।’

তবে অভিযোগ প্রকাশ না করার জন্য তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

সিংড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোয়ারুল হাসান জানান, চেয়ারম্যান ৫ মার্চ ভিজিডি কর্মসূচির ৭.৪১০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতার বলেন, চাল বিতরণ না হওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন,
চাল বিতরণ হয়নি—এমন প্রমাণ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।