ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ করল নেপাল জামালপুরে রাজিব বাস ইস্যুতে এনসিপির মানববন্ধনে হামলা জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইডিবি এমপি হয়ে প্রথমবার সংসদে নিজ দপ্তরে মির্জা আব্বাস এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’ কেউ অভিযোগ করতে পারে নি মাদ্রাসার ছাত্ররা ড্রাগ সেবন করে: জামায়াত আমির বিরোধীদল ওয়াকআউট করলেও বসেছিলেন এমপি হাসনাত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, চুক্তি সই হাসানুল হক, দীপু মনি-লতিফ সিদ্দিকীসহ ১১ আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির বিএনপি সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে: আখতার হোসেন

এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের সব নাগরিককে জন্মের পরই একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামে এই পরিচয়পত্র নাগরিকের সারা জীবনের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।

বর্তমানে জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ১৮ বছর বয়স হলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি দেওয়া হয়। তবে প্রস্তাবিত ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থায় বয়সের কোনো সীমা থাকবে না। জন্মের পরই নাগরিককে এই একক পরিচয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ধীরে ধীরে জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের সেবাও ‘এক-আইডি’র আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

একক পরিচয়পত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ধারণাটিকে বলেছেন—‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’। অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি পরিচয়পত্র থাকবে, যা তার ডিজিটাল পরিচয় হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাও দিতে পারে।

প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ কোটি।

প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৬ টাকা। বিতরণ ও সরবরাহে আরও প্রায় ১২৩ টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৬৯ টাকা।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবাদানের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ করল নেপাল

এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’

আপডেট সময় ০৫:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সব নাগরিককে জন্মের পরই একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামে এই পরিচয়পত্র নাগরিকের সারা জীবনের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।

বর্তমানে জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ১৮ বছর বয়স হলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি দেওয়া হয়। তবে প্রস্তাবিত ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থায় বয়সের কোনো সীমা থাকবে না। জন্মের পরই নাগরিককে এই একক পরিচয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ধীরে ধীরে জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের সেবাও ‘এক-আইডি’র আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

একক পরিচয়পত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ধারণাটিকে বলেছেন—‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’। অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি পরিচয়পত্র থাকবে, যা তার ডিজিটাল পরিচয় হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাও দিতে পারে।

প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ কোটি।

প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৬ টাকা। বিতরণ ও সরবরাহে আরও প্রায় ১২৩ টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৬৯ টাকা।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবাদানের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর হতে পারে।