আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থী ঘোষণা করলেও গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি।

এ আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, কৌশলগত কারণে বিএনপি আসনটি তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)-এর জন্য খালি রেখেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে গুঞ্জন উঠেছে—এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইরুল হাসান আরিফ এ আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন। বিএনপি ও এনসিপির সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে কোনো নাম না থাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশী স্থানীয় নেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন ও সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জামাল হোসেন।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের সাথে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তারা বাকিগুলো আসনগুলোতে প্রার্থী দিতে পারেন বা আমরাও দিতে পারি। প্রয়োজনে এই তালিকা পরিবর্তন করা যাবে।”

তার এই মন্তব্যের পরই চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে—এমন আলোচনা জোরালো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি এই আসনটি জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। সেবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম।

🟩 রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসনটি এবারও জোট কৌশলের অংশ হিসেবেই খালি রাখা হয়েছে—যা বিএনপি-এনসিপি সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলে দিতে পারে।