ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল সরকার-বিরোধী দলের যে কেউ ব্যর্থ হলে পুরো সংসদ ব্যর্থ হবে: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবার আগুনে পুড়লো টিসিবির পণ্য, খালি হাতে ফিরলো নিম্নআয়ের মানুষ নিজের প্রাক্তন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী-এমপিসহ ৪০ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ঝড়ে ভেঙে গেছে মসজিদের মূল অংশ, বারান্দায় নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছালো বাংলাদেশ কেরোসিন তেল কি অপবিত্র মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে

কোনো বাড়িতে গান বাজালে কবরের জায়গা দেওয়া হবে না: মসজিদ কমিটি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

এবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে কোনো বাড়িতে গান বাজানো হলে সেই পরিবারের সদস্যদের কবরস্থানে জায়গা না দেওয়ার ঘোষণা দেয় স্থানীয় মসজিদ কমিটি। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনভর মাইকিং করে গ্রাম জুড়ে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রচার করা হয়। মাইকিংয়ে জানানো হয়, মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি মসজিদের সাপ্তাহিক অনুদান (চাল) নেওয়া হবে না এবং তাদের সামাজিক কার্যক্রমেও কেউ অংশ নেবে না। 

এ ঘটনার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনাসমালোচনার সৃষ্টি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রামের একটি বাড়িতে খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। পরে গত ২৭ মার্চ বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মসজিদ কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে ও সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রবণতা বেড়েছে। এতে অসুস্থ মানুষ, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আমির হোসেন দাবি করেন, মূলত উচ্চ শব্দের সাউন্ড বক্স বাজানোর বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান ছিল। তবে অভিযোগের তীর যেদিকে, সেই পরিবারের গৃহকর্তী রুপা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাতির শখের জন্য এক দিন অল্প শব্দে সাউন্ড বক্স বাজিয়েছিলাম। আজান ও নামাজের সময় সেটি বন্ধ ছিল। কিন্তু শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক এখন পুরো গ্রামকে জিম্মি করছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, মসজিদ কমিটির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন। বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে।

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানও বলেন, ইউএনওর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। মসজিদ কমিটি যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেখান থেকে তারা সরে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের বিষয়ে সামাজিকভাবে আলোচনা হতে পারে, তবে কবরস্থান, মসজিদ ও সামাজিক অধিকার নিয়ে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রামে অস্বস্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল

কোনো বাড়িতে গান বাজালে কবরের জায়গা দেওয়া হবে না: মসজিদ কমিটি

আপডেট সময় ১২:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

এবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে কোনো বাড়িতে গান বাজানো হলে সেই পরিবারের সদস্যদের কবরস্থানে জায়গা না দেওয়ার ঘোষণা দেয় স্থানীয় মসজিদ কমিটি। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনভর মাইকিং করে গ্রাম জুড়ে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রচার করা হয়। মাইকিংয়ে জানানো হয়, মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি মসজিদের সাপ্তাহিক অনুদান (চাল) নেওয়া হবে না এবং তাদের সামাজিক কার্যক্রমেও কেউ অংশ নেবে না। 

এ ঘটনার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনাসমালোচনার সৃষ্টি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রামের একটি বাড়িতে খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। পরে গত ২৭ মার্চ বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মসজিদ কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে ও সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রবণতা বেড়েছে। এতে অসুস্থ মানুষ, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আমির হোসেন দাবি করেন, মূলত উচ্চ শব্দের সাউন্ড বক্স বাজানোর বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান ছিল। তবে অভিযোগের তীর যেদিকে, সেই পরিবারের গৃহকর্তী রুপা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাতির শখের জন্য এক দিন অল্প শব্দে সাউন্ড বক্স বাজিয়েছিলাম। আজান ও নামাজের সময় সেটি বন্ধ ছিল। কিন্তু শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক এখন পুরো গ্রামকে জিম্মি করছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, মসজিদ কমিটির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন। বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে।

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানও বলেন, ইউএনওর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। মসজিদ কমিটি যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেখান থেকে তারা সরে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের বিষয়ে সামাজিকভাবে আলোচনা হতে পারে, তবে কবরস্থান, মসজিদ ও সামাজিক অধিকার নিয়ে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রামে অস্বস্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছিল।