ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেবো না: জামায়াত আমীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি বরং সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছে। জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে যে বিষয়গুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেসব বিষয়ের পরিবর্তন চাই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেবো না, ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই আমরা। ক্ষমতার গরম দিয়ে কেউ যেন পার না পায়, সেই বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত।

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কথা বলার সময় এ কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, “সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না। আমরা ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই।তার মতে, গত ৫৪ বছরে সংবিধানের কিছু সুযোগসুবিধার অপব্যবহারের কারণেই বারবার ফ্যাসিবাদী প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে, তাই সেসব অংশ বাদ দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠন করা দরকার।

জামায়াতের ওপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সংসদের সবাই কোনো না কোনোভাবে মজলুম।তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান, যেখানে আইন ও সংবিধানের অপব্যবহার করে আর কোনো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। ডা. শফিকুর রহমানজুলাই সনদকে জাতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এসবের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে ফ্যাসিবাদের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সে সময়ে সহিংসতার শিকার হয়ে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। মব কালচারের দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দলটি সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার, তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অন্যায়। তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতাদের বিচারিক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হয়েছে এবং বহু কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। শেষে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ মানে ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে কোনো নাগরিকই বৈষম্যের শিকার হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর শাহ গ্রেপ্তার

সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেবো না: জামায়াত আমীর

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি বরং সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছে। জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে যে বিষয়গুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেসব বিষয়ের পরিবর্তন চাই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেবো না, ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই আমরা। ক্ষমতার গরম দিয়ে কেউ যেন পার না পায়, সেই বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত।

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কথা বলার সময় এ কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, “সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না। আমরা ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই।তার মতে, গত ৫৪ বছরে সংবিধানের কিছু সুযোগসুবিধার অপব্যবহারের কারণেই বারবার ফ্যাসিবাদী প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে, তাই সেসব অংশ বাদ দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠন করা দরকার।

জামায়াতের ওপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সংসদের সবাই কোনো না কোনোভাবে মজলুম।তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান, যেখানে আইন ও সংবিধানের অপব্যবহার করে আর কোনো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। ডা. শফিকুর রহমানজুলাই সনদকে জাতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এসবের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে ফ্যাসিবাদের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সে সময়ে সহিংসতার শিকার হয়ে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। মব কালচারের দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দলটি সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার, তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অন্যায়। তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতাদের বিচারিক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হয়েছে এবং বহু কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। শেষে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ মানে ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে কোনো নাগরিকই বৈষম্যের শিকার হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না।