ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রংপুরে চার খুন হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনালাপ হয় আসামিদের: পুলিশ ১১০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ইউরোপে তৃতীয় বাংলাদেশি হাফেজ সাদ ছাত্রদল নেতার হুমকির পর পদত্যাগ করলেন চবির হল প্রভোস্ট বিদ্যুৎ সংকট: ‘১২ ঘণ্টায় ৯ বার লোডশেডিং, এলেও ২০ মিনিটের বেশি থাকে না’ আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়: আছিয়ার মা নির্বাচনের ৭ বছর পর রাশেদ খাঁনকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা ধারের টাকা ফেরত না দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেত্রীর ৬ মাসের কারাদণ্ড বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কাল: দেশবাসীকে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবকের গলায় জুতার মালা দিয়ে এলাকা ঘুরানো হলো পদ্মা সেতুতে উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস, গুরুতর আহত ১০

ওই দিনই মারা যান বৃদ্ধা নূর জাহান, পচন নয়—পিঠে ছিল ‘শয্যাক্ষত’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:০০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হলেও, তার সন্তানদের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অনুসন্ধান।

গত ৩১ মে মিরপুরের সেকশন-৬ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফ্ল্যাটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং মরদেহের অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় থাকার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূর জাহান বেগম জীবনের শেষ দুই বছর মেয়ের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। ময়নাতদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের অনেক দিন আগে নয়, বরং মর্গে নেওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্ল্যাটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, একই ধরনের নোংরা ও অগোছালো অবস্থা পুরো বাসাজুড়েই ছিল বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে যাওয়া নার্স ও পুলিশ কর্মকর্তারা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, একাধিকবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মা ও মেয়ের অনীহার কারণে তা স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

নূর জাহান বেগমের ছোট ছেলে, বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান জানান, তার মায়ের কিছু মানসিক জটিলতা ও সন্দেহপ্রবণ আচরণ ছিল। একইসঙ্গে স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়েও দীর্ঘদিন নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর নূর জাহান বেগমের সন্তানদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমানকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সন্তানদের বিরুদ্ধে অবহেলা বা ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও জনআলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

রংপুরে চার খুন হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনালাপ হয় আসামিদের: পুলিশ

ওই দিনই মারা যান বৃদ্ধা নূর জাহান, পচন নয়—পিঠে ছিল ‘শয্যাক্ষত’

আপডেট সময় ০৭:০০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হলেও, তার সন্তানদের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অনুসন্ধান।

গত ৩১ মে মিরপুরের সেকশন-৬ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফ্ল্যাটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং মরদেহের অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় থাকার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূর জাহান বেগম জীবনের শেষ দুই বছর মেয়ের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। ময়নাতদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের অনেক দিন আগে নয়, বরং মর্গে নেওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্ল্যাটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, একই ধরনের নোংরা ও অগোছালো অবস্থা পুরো বাসাজুড়েই ছিল বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে যাওয়া নার্স ও পুলিশ কর্মকর্তারা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, একাধিকবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মা ও মেয়ের অনীহার কারণে তা স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

নূর জাহান বেগমের ছোট ছেলে, বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান জানান, তার মায়ের কিছু মানসিক জটিলতা ও সন্দেহপ্রবণ আচরণ ছিল। একইসঙ্গে স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়েও দীর্ঘদিন নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর নূর জাহান বেগমের সন্তানদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমানকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সন্তানদের বিরুদ্ধে অবহেলা বা ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও জনআলোচনা অব্যাহত রয়েছে।