ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১৯ কিলোমিটারের লক্ষ্যে খনন ২১ কিলোমিটার, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৪০ লাখ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া সেই ভারতীয় পাইলট যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয় আমরা সবাই বাংলাদেশী: প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা হরমুজ প্রণালিতে আরও নৌ মাইন বসাচ্ছে ইরান ‘রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না’ মাকে মারধরের ঘটনায় ছেলের ৬ মাসের জেল, ১০০ টাকা জরিমানা বাবাকে হাসপাতালে এনে জমির দলিলে সই নেওয়ার চেষ্টা মেয়ের, ভিডিও ভাইরাল আপনি প্রেসিডেন্ট, উন্মাদ রাজা নন: ট্রাম্পকে মার্কিন সিনেটর

ফের উত্তপ্ত ক্যাম্পাস, তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা দেখছেন বিশ্লেষকরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে দুই সংগঠন। একই সঙ্গে উসকানি দেওয়া হলে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন উভয় পক্ষের নেতারা।

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দুই সংগঠনের মধ্যে এমন বিরোধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম দাবি করেন, সহিংসতার জন্য তাদের সংগঠন দায়ী নয়। তার অভিযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে ঘটনাগুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্যাম্পাসে শিবিরের ‘মব’ তৈরির চেষ্টা ছাত্রদল প্রতিহত করেছে। ভবিষ্যতেও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জবাব দেওয়ার কথাও বলেছেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘর্ষের পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের মতে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির যত বেশি সংঘাতে জড়াবে, ততই লাভবান হবে অন্য কোনো পক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় ক্যাম্পাসে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের পরামর্শ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১৯ কিলোমিটারের লক্ষ্যে খনন ২১ কিলোমিটার, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৪০ লাখ

ফের উত্তপ্ত ক্যাম্পাস, তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা দেখছেন বিশ্লেষকরা

আপডেট সময় ০২:২১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে দুই সংগঠন। একই সঙ্গে উসকানি দেওয়া হলে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন উভয় পক্ষের নেতারা।

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দুই সংগঠনের মধ্যে এমন বিরোধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম দাবি করেন, সহিংসতার জন্য তাদের সংগঠন দায়ী নয়। তার অভিযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে ঘটনাগুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্যাম্পাসে শিবিরের ‘মব’ তৈরির চেষ্টা ছাত্রদল প্রতিহত করেছে। ভবিষ্যতেও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জবাব দেওয়ার কথাও বলেছেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘর্ষের পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের মতে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির যত বেশি সংঘাতে জড়াবে, ততই লাভবান হবে অন্য কোনো পক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় ক্যাম্পাসে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের পরামর্শ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।