ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল সরকার-বিরোধী দলের যে কেউ ব্যর্থ হলে পুরো সংসদ ব্যর্থ হবে: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবার আগুনে পুড়লো টিসিবির পণ্য, খালি হাতে ফিরলো নিম্নআয়ের মানুষ নিজের প্রাক্তন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী-এমপিসহ ৪০ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ঝড়ে ভেঙে গেছে মসজিদের মূল অংশ, বারান্দায় নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছালো বাংলাদেশ কেরোসিন তেল কি অপবিত্র মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

এবার তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা- গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের একপঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাওনয়তো তোমরা নরকে বাস করবেশুধু দেখে যাও!’ অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরিসমাপ্তির পথে এবং আগামী দুইতিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা- যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে। ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্বপানামা খালহতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলেরাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকারযুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে। ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত- প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরিশুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব। মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান!

আপডেট সময় ১২:২১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

এবার তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা- গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের একপঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাওনয়তো তোমরা নরকে বাস করবেশুধু দেখে যাও!’ অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরিসমাপ্তির পথে এবং আগামী দুইতিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা- যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে। ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্বপানামা খালহতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলেরাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকারযুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে। ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত- প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরিশুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব। মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস