ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

দুঃসময়ে ইরানকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়া!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পিয়ংইয়ংয়ের সমীকরণ এখন একদম ভিন্ন। উত্তর কোরিয়া এখন আর কেবল আদর্শিক বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে চলছে না। তারা অত্যন্ত হিসেবি হয়ে উঠেছে। দেশটি এখন নিজেদের স্বার্থেই ইরানকে নিরাপদ দূরত্বে রাখছে।

এদিকে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত তেহরানে কোনো নতুন সামরিক সরঞ্জাম বা মিসাইল পাঠায়নি। ৬ এপ্রিল সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টারি ইন্টেলিজেন্স কমিটির মেম্বার পার্ক সুনওয়ানের ব্রিফিংএর বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

পার্ক সুনওয়ানের ব্রিফিং অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া তাদের চিরচেনা মিত্র ইরানের প্রতি আগের মতো আর উষ্ণতা দেখাচ্ছে না। এর সপক্ষে বেশ কয়েকটি অকাট্য প্রমাণ দিয়ে তিনি বলেন, ”উত্তর কোরিয়া কেবল যে ইরানকে অস্ত্র বা রসদ সরবরাহ বন্ধ করেছে তাই নয়, বরং তারা তাদের এই দীর্ঘদিনের মিত্রের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার স্পষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে। যেমনইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতে তারা কোনো শোকবার্তা পাঠায়নি, এমনকি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা যখন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন, তখনো তারা কোনো অভিনন্দন বার্তা পাঠায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে উত্তর কোরিয়া নিজেও মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল বা প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার ফলে দ্রব্যমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের তেলের চাহিদা মেটাতে তারা এখন রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ইরান নিজেই এখন চাপে। তাই উত্তর কোরিয়ার তেলের চাহিদা মেটানোর মতো ক্ষমতা এখন তেহরানের নেই। পার্ক সুনওয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া এখন রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত তেল ও খাদ্য পাচ্ছে। ফলে রাশিয়ার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ কিমের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এছাড়া ২০২৪ সালে পুতিন ও কিম একটিক্যামপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপসই করেছেন। এর মানে হলো, যদি উত্তর কোরিয়া আক্রান্ত হয়, তবে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু ইরানের সাথে উত্তর কোরিয়ার এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ভবিষ্যতে আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করতে চাচ্ছেন। ইরানের সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা দেখালে ওয়াশিংটনের সাথে দরকষাকষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যা পিয়ংইয়ং এই মুহূর্তে নিজেদের স্বার্থেই এড়াতে চায়। 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

দুঃসময়ে ইরানকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়া!

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পিয়ংইয়ংয়ের সমীকরণ এখন একদম ভিন্ন। উত্তর কোরিয়া এখন আর কেবল আদর্শিক বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে চলছে না। তারা অত্যন্ত হিসেবি হয়ে উঠেছে। দেশটি এখন নিজেদের স্বার্থেই ইরানকে নিরাপদ দূরত্বে রাখছে।

এদিকে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত তেহরানে কোনো নতুন সামরিক সরঞ্জাম বা মিসাইল পাঠায়নি। ৬ এপ্রিল সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টারি ইন্টেলিজেন্স কমিটির মেম্বার পার্ক সুনওয়ানের ব্রিফিংএর বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

পার্ক সুনওয়ানের ব্রিফিং অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া তাদের চিরচেনা মিত্র ইরানের প্রতি আগের মতো আর উষ্ণতা দেখাচ্ছে না। এর সপক্ষে বেশ কয়েকটি অকাট্য প্রমাণ দিয়ে তিনি বলেন, ”উত্তর কোরিয়া কেবল যে ইরানকে অস্ত্র বা রসদ সরবরাহ বন্ধ করেছে তাই নয়, বরং তারা তাদের এই দীর্ঘদিনের মিত্রের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার স্পষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে। যেমনইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতে তারা কোনো শোকবার্তা পাঠায়নি, এমনকি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা যখন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন, তখনো তারা কোনো অভিনন্দন বার্তা পাঠায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে উত্তর কোরিয়া নিজেও মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল বা প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার ফলে দ্রব্যমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের তেলের চাহিদা মেটাতে তারা এখন রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ইরান নিজেই এখন চাপে। তাই উত্তর কোরিয়ার তেলের চাহিদা মেটানোর মতো ক্ষমতা এখন তেহরানের নেই। পার্ক সুনওয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া এখন রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত তেল ও খাদ্য পাচ্ছে। ফলে রাশিয়ার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ কিমের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এছাড়া ২০২৪ সালে পুতিন ও কিম একটিক্যামপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপসই করেছেন। এর মানে হলো, যদি উত্তর কোরিয়া আক্রান্ত হয়, তবে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু ইরানের সাথে উত্তর কোরিয়ার এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ভবিষ্যতে আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করতে চাচ্ছেন। ইরানের সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা দেখালে ওয়াশিংটনের সাথে দরকষাকষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যা পিয়ংইয়ং এই মুহূর্তে নিজেদের স্বার্থেই এড়াতে চায়।