ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!: সমালোচনার জবাবে মাদানী ভারত থেকে তিন ট্রাক বিস্ফোরক আমদানি করলো বাংলাদেশ রাজনীতিতে আর জড়াতে চান না দেব, ফিরছেন অভিনয়ে রাজধানীর সব বাসায় সোলার বসানোর উদ্যোগ সরকারের ইউনূস-আসিফ নজরুল-শফিকুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন? ইরান ‘চিরকাল’ হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা-ইংরেজি রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ

তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

এবার তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর আমন্ত্রণে ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চীন সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সরকারি সফর। বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করে এবং একে অপরের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা ও প্রধান ইস্যুগুলো সমাধানে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশচীন বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি বজায় রাখা, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা জোরদার করা এবং উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশএক চীন নীতির প্রতি তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। ঢাকা স্পষ্ট করে জানায়, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বাংলাদেশতাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। বৈঠকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) প্রসার এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ। বাংলাদেশ পক্ষ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগের প্রশংসা করে এবং চীনের প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানায়। দুই পক্ষ জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা, বহুপাক্ষিকতা, গণতন্ত্র এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

আঞ্চলিক বিষয়ে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের প্রস্তাবের প্রশংসা করে। উভয় পক্ষ অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু রক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখার আহ্বান জানায়। রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে চীন জানায়, তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সমস্যার পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। ড. খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা

তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

এবার তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর আমন্ত্রণে ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চীন সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সরকারি সফর। বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করে এবং একে অপরের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা ও প্রধান ইস্যুগুলো সমাধানে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশচীন বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি বজায় রাখা, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা জোরদার করা এবং উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশএক চীন নীতির প্রতি তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। ঢাকা স্পষ্ট করে জানায়, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বাংলাদেশতাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। বৈঠকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) প্রসার এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ। বাংলাদেশ পক্ষ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগের প্রশংসা করে এবং চীনের প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানায়। দুই পক্ষ জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা, বহুপাক্ষিকতা, গণতন্ত্র এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

আঞ্চলিক বিষয়ে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের প্রস্তাবের প্রশংসা করে। উভয় পক্ষ অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু রক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখার আহ্বান জানায়। রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে চীন জানায়, তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সমস্যার পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। ড. খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।