ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের হানা, কনের মাকে জরিমানা লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার অন্য আসামিদের মতোই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে বাস খাদে, শিক্ষার্থীসহ নিহত ২১ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: নয়াদিল্লি ইরানি হামলায় কুয়েত সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল কখনও বিশ্বকাপ ট্রফি জেতেনি, এবার পারবে আর্জেন্টিনা? ফকল্যান্ড নিয়ে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ফিফার জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো টাইগাররা

শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা সাঘাটায় নিজের দলের নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ড এবং পূর্বে স্বজন হত্যার বিচার না পাওয়ার অভিযোগে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল জলিল তোতা।

বৃহস্পতিবার ২৫ জুন উপজেলার বোনারপাড়ায় নিজ বাড়িতে তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।

আব্দুল জলিল উপজেলার বোনারপাড়ার মরহুম আবু বক্করের ছেলে। তাঁর দাবি, বারবার স্বজন হারিয়েও বিচার না পাওয়ায় তিনি রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে আব্দুল জলিল প্রথমে বিএনপির সমর্থক এবং পরে কর্মী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন এবং একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

আব্দুল জলিল তোতা মিরর নিউজকে বলেন, “২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ আট বছরেও সেই হত্যার বিচার পাইনি। আবার গত ২১ জুন আমার মামাতো ভাই, ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার পাব কি না, তাও জানি না। বারবার স্বজন হারানো এবং বিচারহীনতার অভিজ্ঞতা আমাকে হতাশ করেছে। তাই আমি আর এই নোংরা রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, “আব্দুল জলিল তোতা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। তিনি বিএনপির কোনো কমিটির সদস্যও নন। বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় বিএনপি বহন করবে না।”

 

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের হানা, কনের মাকে জরিমানা

শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা

আপডেট সময় ০১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা সাঘাটায় নিজের দলের নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ড এবং পূর্বে স্বজন হত্যার বিচার না পাওয়ার অভিযোগে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল জলিল তোতা।

বৃহস্পতিবার ২৫ জুন উপজেলার বোনারপাড়ায় নিজ বাড়িতে তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।

আব্দুল জলিল উপজেলার বোনারপাড়ার মরহুম আবু বক্করের ছেলে। তাঁর দাবি, বারবার স্বজন হারিয়েও বিচার না পাওয়ায় তিনি রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে আব্দুল জলিল প্রথমে বিএনপির সমর্থক এবং পরে কর্মী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন এবং একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

আব্দুল জলিল তোতা মিরর নিউজকে বলেন, “২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ আট বছরেও সেই হত্যার বিচার পাইনি। আবার গত ২১ জুন আমার মামাতো ভাই, ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার পাব কি না, তাও জানি না। বারবার স্বজন হারানো এবং বিচারহীনতার অভিজ্ঞতা আমাকে হতাশ করেছে। তাই আমি আর এই নোংরা রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, “আব্দুল জলিল তোতা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। তিনি বিএনপির কোনো কমিটির সদস্যও নন। বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় বিএনপি বহন করবে না।”

 

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।