ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হরমুজের বাইরেও ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করছে ইরান, জাহাজ ঢুকলেই নিষেধাজ্ঞা প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে বলল চীন, উদ্বেগ ভারতের এক মাসের প্রেমের টানে নারায়ণগঞ্জে চীনা তরুণ, করতে চান বিয়ে এবার ৬ দফা দাবিতে বগুড়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মিছিল-পোস্টা নিষিদ্ধ দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির ডিসেম্বরে দেশে ‘ফেরা হচ্ছে না’ শেখ হাসিনার শেখ হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের সুযোগ শেষ: চিফ প্রসিকিউটর

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ইতালিতে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে ইতালিতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি যায় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চল থেকে। বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেকে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ প্রবণতা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে যৌথভাবে কর্মশালা করতে চায় ইতালি। এসব কর্মশালায় মানুষকে অবৈধ পথে না গিয়ে বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ইতালি বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে এবং দালালের মাধ্যমে ইতালি না যেতে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন বলেও জানান তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরও কয়েকটি ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের একটি শহরের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ইতালির মিলান। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি। এ লক্ষ্যে একজন সিটি মেয়র ও কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এতে ইতালি সম্মতি জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক পাঠানোর কথা জানিয়েছে। ইতালিকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশটি থেকে বাংলাদেশ প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য আমদানি করে এবং প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করে। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিবছর ইতালি থেকে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে তিনি দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি রাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেটিই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক আরও গভীর করতে কীভাবে কাজ করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করতে ইতালি খুবই আগ্রহী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজের বাইরেও ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করছে ইরান, জাহাজ ঢুকলেই নিষেধাজ্ঞা

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

আপডেট সময় ০১:৪৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ইতালিতে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে ইতালিতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি যায় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চল থেকে। বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেকে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ প্রবণতা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে যৌথভাবে কর্মশালা করতে চায় ইতালি। এসব কর্মশালায় মানুষকে অবৈধ পথে না গিয়ে বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ইতালি বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে এবং দালালের মাধ্যমে ইতালি না যেতে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন বলেও জানান তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরও কয়েকটি ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের একটি শহরের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ইতালির মিলান। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি। এ লক্ষ্যে একজন সিটি মেয়র ও কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এতে ইতালি সম্মতি জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক পাঠানোর কথা জানিয়েছে। ইতালিকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশটি থেকে বাংলাদেশ প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য আমদানি করে এবং প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করে। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিবছর ইতালি থেকে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে তিনি দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি রাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেটিই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক আরও গভীর করতে কীভাবে কাজ করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করতে ইতালি খুবই আগ্রহী।