ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর ৫ দাঁত ভেঙে দিল যুবক রাশিয়ার নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জয় পেল পুতিনের দল তারেক রহমানের বক্তব্যে বিশ্বনেতারা আলোড়িত হবেন: রাষ্ট্রদূত বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জাতিসংঘে ‘আমাদের’ বিরাট পদোন্নতি, বলে উচ্ছ্বাস ড. ইউনূসের বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকট, স্বস্তি মিলবে না ২০২৭ সালেও এবার সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স এবার নিজের কৃতিত্ব দেখাতে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার সতর্কবার্তা ইরানের ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক হচ্ছে না: হুমায়ুন কবির

হাসপাতাল ঢুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১০ জনকে বেধড়ক পিটুনি, আটক ৩

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
  • ৯২৭ বার পড়া হয়েছে

এবার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকসহ অন্তত ১০ জনকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে।

এদিকে আহতরা হলেন- রামগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক রেদোয়ান সালেহীন নাঈম, আজিজ শাকিল, সাঈদ আলম শাহীন, জাহীদ হাসান পাবেল, তারেক আজিজ, সায়মন স্যাম, তারেক ও সংবাদকর্মী রায়হানুর রহমানসহ ১০ জন। খবর পেয়ে রাতেই তাদেরকে হাসপাতাল দেখতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম। আটকরা হলেন- মো. মাসুদ, কামাল হোসেন ও তুষার। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের শৈরশই গ্রামের গনক বাড়িতে রাহুল ও সাফোয়ান নামে দুই কিশোর ফুটবল খেলেন। তখন ফুটবল পড়ে একই বাড়ির উদ্দীপন এনজিওর কর্মী সোহাগ আলমের ছেলে আনাছুর রহমান (১) মাথায় আঘাত পায়। পরে রাহুল ও সাফোয়ানের কাছে শিশুটির মা আমেনা আক্তার বিথী ফুটবল মারার কারণ জিজ্ঞেস করে। এ নিয়ে আমেনার সঙ্গে তাদের স্বজনদের বাগবিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতাল নেওয়া হয়। হাসপাতাল নেওয়ার পথে রাহুলের বাবা রাজন হোসেন ও সাফোয়ানের বাবা মো. লিপনসহ স্বজনরা শিশুটির বাবা সোহাগকে আইনের আশ্রয় না নিতে হুমকি দেন।

এদিকে শিশুটিকে হাসপাতাল ভর্তি করার পর রাহুল-সাফোয়ানদের স্বজন মাসুদ, তুষার, কামালসহ কয়েকজন সেখানে যান। একপর্যায়ে শিশুটির ফুফু জান্নাতুল ফেরদাউসের চুল টেনে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি শিশু সোহাগ তার আত্মীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক রেদোয়ানকে জানান। পরে রেদোয়ানসহ কয়েকজন ঘটনাটি জানতে হাসপাতালে যায়। এতে তুষার, মাসুদ ও কামাল ২০-২৫ জন লোক নিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে রেদোয়ানদের পিটিয়ে আহত করে। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালের ভেতর মারধর করার ঘটনায় আমরা নিজেরা উদ্বিগ্ন। আমাদের চিকিৎসক ও নার্স তারাও অনিরাপদ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম বলেন, হামলার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে কথা হয়ছে। জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা পুলিশকে বলেছি।

এদিকে রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর ৫ দাঁত ভেঙে দিল যুবক

হাসপাতাল ঢুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১০ জনকে বেধড়ক পিটুনি, আটক ৩

আপডেট সময় ০৯:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

এবার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকসহ অন্তত ১০ জনকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে।

এদিকে আহতরা হলেন- রামগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক রেদোয়ান সালেহীন নাঈম, আজিজ শাকিল, সাঈদ আলম শাহীন, জাহীদ হাসান পাবেল, তারেক আজিজ, সায়মন স্যাম, তারেক ও সংবাদকর্মী রায়হানুর রহমানসহ ১০ জন। খবর পেয়ে রাতেই তাদেরকে হাসপাতাল দেখতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম। আটকরা হলেন- মো. মাসুদ, কামাল হোসেন ও তুষার। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের শৈরশই গ্রামের গনক বাড়িতে রাহুল ও সাফোয়ান নামে দুই কিশোর ফুটবল খেলেন। তখন ফুটবল পড়ে একই বাড়ির উদ্দীপন এনজিওর কর্মী সোহাগ আলমের ছেলে আনাছুর রহমান (১) মাথায় আঘাত পায়। পরে রাহুল ও সাফোয়ানের কাছে শিশুটির মা আমেনা আক্তার বিথী ফুটবল মারার কারণ জিজ্ঞেস করে। এ নিয়ে আমেনার সঙ্গে তাদের স্বজনদের বাগবিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতাল নেওয়া হয়। হাসপাতাল নেওয়ার পথে রাহুলের বাবা রাজন হোসেন ও সাফোয়ানের বাবা মো. লিপনসহ স্বজনরা শিশুটির বাবা সোহাগকে আইনের আশ্রয় না নিতে হুমকি দেন।

এদিকে শিশুটিকে হাসপাতাল ভর্তি করার পর রাহুল-সাফোয়ানদের স্বজন মাসুদ, তুষার, কামালসহ কয়েকজন সেখানে যান। একপর্যায়ে শিশুটির ফুফু জান্নাতুল ফেরদাউসের চুল টেনে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি শিশু সোহাগ তার আত্মীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক রেদোয়ানকে জানান। পরে রেদোয়ানসহ কয়েকজন ঘটনাটি জানতে হাসপাতালে যায়। এতে তুষার, মাসুদ ও কামাল ২০-২৫ জন লোক নিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে রেদোয়ানদের পিটিয়ে আহত করে। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালের ভেতর মারধর করার ঘটনায় আমরা নিজেরা উদ্বিগ্ন। আমাদের চিকিৎসক ও নার্স তারাও অনিরাপদ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম বলেন, হামলার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে কথা হয়ছে। জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা পুলিশকে বলেছি।

এদিকে রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।