ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মানবতাবিরোধী অপরাধে ১০ বছরের কারাদণ্ড হাসানুল হক ইনুর পলাতক হাসিনার কোনো খবর প্রকাশ করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ে প্যারাগুয়েতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা ‘হাত ধরবেন না’, এজলাসে তোলার সময় পুলিশকে ইনু ১ টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে: আইনমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার নিষেধাজ্ঞা থাকা পর্যন্ত রাজনীতি করতে পারবে না আ. লীগ: তথ্য উপদেষ্টা নেতানিয়াহুর জন্য যুদ্ধাস্ত্র কেনা ঠিক হবে না: মার্কিন কংগ্রেসম্যান খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ব্রাজিলের জয়ে উচ্ছ্বসিত তারকারা, ‘জাপান্টিনা’ খোঁচা হিমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছেন না, বরং নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্যে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করবেন। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজাতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি। ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। আমি কোনো শূন্যতা তৈরি করতে চাই না। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ড. নিয়াজ আহমদ খান রাজনৈতিক শিষ্টাচার, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেই সরকারই নির্বাচিত হয়ে আসুক, তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে পদত্যাগ করলে সেটি ভুল বার্তা দিতে পারে। তাই নির্বাচন হওয়ার আগেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন, যাতে নতুন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্যের প্রশ্ন না ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। এর পরবর্তী সময়ে ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর।

. নিয়াজ আহমদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার দায়িত্ব নেয়ার সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল, সেই পরিস্থিতির অনেকটাই এখন উন্নত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে আপাতত তিনি তার মূল পেশা শিক্ষকতায় ফিরে যেতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তার এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক চাপের ফল নয় এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বিবেচনা করেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতাবিরোধী অপরাধে ১০ বছরের কারাদণ্ড হাসানুল হক ইনুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ০৪:২৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছেন না, বরং নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্যে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করবেন। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজাতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি। ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। আমি কোনো শূন্যতা তৈরি করতে চাই না। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ড. নিয়াজ আহমদ খান রাজনৈতিক শিষ্টাচার, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেই সরকারই নির্বাচিত হয়ে আসুক, তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে পদত্যাগ করলে সেটি ভুল বার্তা দিতে পারে। তাই নির্বাচন হওয়ার আগেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন, যাতে নতুন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্যের প্রশ্ন না ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। এর পরবর্তী সময়ে ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর।

. নিয়াজ আহমদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার দায়িত্ব নেয়ার সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল, সেই পরিস্থিতির অনেকটাই এখন উন্নত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে আপাতত তিনি তার মূল পেশা শিক্ষকতায় ফিরে যেতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তার এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক চাপের ফল নয় এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বিবেচনা করেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।