সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে পিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে তাদের চোখে ঢালা হয় চুনের পানি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পালইছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দোয়ারাবাজারের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে তিনি স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে গরু খুঁজতে বের হন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে দিয়ে দুটি গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন সোনাই মিয়া (২৫)। এ সময় মুসল্লিদের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তারা সোনাইকে আটক করেন।
ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জুরাপানি গ্রামের বাসিন্দা সোনাই। স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গরু চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তার সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন বলে জানান।
চুরির অভিযোগে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় শাস্তি
তারা হলেন- দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউরি গ্রামের আবু বক্কর ওরফে বাক্কার (৩৫) এবং একই উপজেলার পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩০)।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৮শ শয্যার অনুমোদন
পরে স্থানীয় লোকজন বক্কর ও নিজামকে মসজিদের সামনে ধরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আনোয়ার হোসেন এসে গরু দুটি তার বলে শনাক্ত করেন। এরপর অভিযুক্ত তিনজনকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকান থেকে চুন নিয়ে এসে পানিতে গুলিয়ে তাদের চোখে ঢেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক লোকের মধ্যে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। তারা মারধর না করার জন্য অনুরোধ করছেন। তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার হাতটা খুইলা একটু পানি দেও। আমি আপনার পায়ে ধরি, একটু পানি খাইতাম।’ পরে তাকে পানি পান করানো হয়।
খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ সদস্যরা গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘তিনজনের চোখের আঘাতই গুরুতর। হাসপাতালে চোখের চিকিৎসক না থাকায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















