ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির খসড়া ফাঁস করল সিএনএন ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান রাফিনিয়াকে ভুল পজিশনে খেলাচ্ছেন আনচেলত্তি, প্রশ্ন তুললেন রোনালদো দেশের প্রধান রুটে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রেন- প্রধানমন্ত্রী নামাজের ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গ্রেফতার ইরান আচরণ না বদলালে আবার বোমা হামলা হবে : ট্রাম্প শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ বলা স্লিপ অব টাং: জামায়াত এমপি

সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছে অপহৃত ১৮ জেলে, এখনও নিখোঁজ দুইজন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলে ও মৌয়ালরা সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও এখনও মুক্তি মেলেনি দুই জেলের। ফলে নিখোঁজ দুইজনকে ঘিরে তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালদের ভাষ্য, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাথাভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ির খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে জলদস্যুরা মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে।

 

 

অপহৃতদের মহাজন ও তাদের স্বজনরা জানান, দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে সমঝোতা করা হয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর একে একে জেলে ও মৌয়ালদের ছেড়ে দেয় দস্যুরা।

 

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া বনজীবী মুরশিদ আলম ৭০ হাজার টাকা, করিম শেখ এক লাখ ২০ হাজার টাকা, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

 

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জলদস্যুদের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে জানা গেছে।

 

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

 

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ড ও বনবিভাগের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না। তারা সহযোগিতা করলে আমরা সুন্দরবনের দস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন

সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছে অপহৃত ১৮ জেলে, এখনও নিখোঁজ দুইজন

আপডেট সময় ০৯:০৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলে ও মৌয়ালরা সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও এখনও মুক্তি মেলেনি দুই জেলের। ফলে নিখোঁজ দুইজনকে ঘিরে তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালদের ভাষ্য, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাথাভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ির খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে জলদস্যুরা মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে।

 

 

অপহৃতদের মহাজন ও তাদের স্বজনরা জানান, দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে সমঝোতা করা হয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর একে একে জেলে ও মৌয়ালদের ছেড়ে দেয় দস্যুরা।

 

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া বনজীবী মুরশিদ আলম ৭০ হাজার টাকা, করিম শেখ এক লাখ ২০ হাজার টাকা, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

 

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জলদস্যুদের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে জানা গেছে।

 

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

 

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ড ও বনবিভাগের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না। তারা সহযোগিতা করলে আমরা সুন্দরবনের দস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।