ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নতুন ১৫০ গ্যাসকূপ খননের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর  প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নি’হ’ত ফিরোজার পরিবারকে গাভী দিল উপজেলা প্রশাসন বিবাহ-তালাক নিবন্ধনের ডিজিটাইজেশন হচ্ছে, কমবে বাল্যবিয়ে ও বহুবিবাহ: আইনমন্ত্রী ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বজ্রপাতে আগুন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দলীয় লোক দিয়ে দুদক গঠন করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ জিয়াউর রহমান ঘোষণা না দিলে দেশ স্বাধীন হতো কি না সন্দেহ আছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী  চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে হতে পারে: সারজিস

মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করেছে লেবাননের সংসদ। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আইনি সিদ্ধান্ত নিল লেবানন। নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন ও কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির ১২৮ সদস্যের সংসদে অধিকাংশ আইনপ্রণেতা মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। কয়েকটি সংশোধনী যুক্ত করার পর আইনটি অনুমোদন করা হয়। তবে হেজবুল্লাহ-সমর্থিত সংসদীয় জোট এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়নি।

সংসদে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার সিদ্ধান্তটিকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

লেবাননে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। তবে বিভিন্ন মামলায় আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে আসছিল। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে ৮৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, এটি লেবাননে মানবাধিকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থগিতাবস্থাকে এবার স্থায়ী আইনি সুরক্ষা দেওয়া হলো।

তবে নতুন আইনে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার দাবি, নতুন শাস্তির বিস্তারিত কাঠামো এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এর পাশাপাশি দেশটির দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর করাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পাশাপাশি একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও আলোচনা চলছে লেবাননের সংসদে। ১৯৯০ সালে ১৫ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন হতে পারে। আইনটি পাস হলে সহিংসতার ঘটনায় দণ্ডিত কিছু ব্যক্তির সাজা কমানো বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে হামলায় নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। তাদের আশঙ্কা, স্বজন হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের সাজা কমানো হলে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

সব মিলিয়ে, মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও নতুন শাস্তি কার্যকর করা এবং সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে লেবাননে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ১৫০ গ্যাসকূপ খননের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর 

মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন

আপডেট সময় ১১:১৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করেছে লেবাননের সংসদ। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আইনি সিদ্ধান্ত নিল লেবানন। নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন ও কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির ১২৮ সদস্যের সংসদে অধিকাংশ আইনপ্রণেতা মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। কয়েকটি সংশোধনী যুক্ত করার পর আইনটি অনুমোদন করা হয়। তবে হেজবুল্লাহ-সমর্থিত সংসদীয় জোট এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়নি।

সংসদে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার সিদ্ধান্তটিকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

লেবাননে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। তবে বিভিন্ন মামলায় আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে আসছিল। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে ৮৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, এটি লেবাননে মানবাধিকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থগিতাবস্থাকে এবার স্থায়ী আইনি সুরক্ষা দেওয়া হলো।

তবে নতুন আইনে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার দাবি, নতুন শাস্তির বিস্তারিত কাঠামো এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এর পাশাপাশি দেশটির দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর করাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পাশাপাশি একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও আলোচনা চলছে লেবাননের সংসদে। ১৯৯০ সালে ১৫ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন হতে পারে। আইনটি পাস হলে সহিংসতার ঘটনায় দণ্ডিত কিছু ব্যক্তির সাজা কমানো বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে হামলায় নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। তাদের আশঙ্কা, স্বজন হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের সাজা কমানো হলে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

সব মিলিয়ে, মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও নতুন শাস্তি কার্যকর করা এবং সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে লেবাননে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।