ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নতুন ১৫০ গ্যাসকূপ খননের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর  প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নি’হ’ত ফিরোজার পরিবারকে গাভী দিল উপজেলা প্রশাসন বিবাহ-তালাক নিবন্ধনের ডিজিটাইজেশন হচ্ছে, কমবে বাল্যবিয়ে ও বহুবিবাহ: আইনমন্ত্রী ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বজ্রপাতে আগুন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দলীয় লোক দিয়ে দুদক গঠন করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ জিয়াউর রহমান ঘোষণা না দিলে দেশ স্বাধীন হতো কি না সন্দেহ আছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী  চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে হতে পারে: সারজিস

কাবা শরীফে দিকে তাকিয়ে আল্লাহু আকবর বলার পরই মৃত্যু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশের মাত্র চার দিনের মাথায় সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর মসজিদুল হারামেই ইন্তেকাল করেছেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের হাজি আবদুল লতিফ ওরফে বাও।

বুধবার ভোরে মক্কার মসজিদুল হারামে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেসরকারি স্কুলে বই সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে হঠাৎ ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরা ভিসার জন্য আবেদন করেন তারা। গত ১১ আগস্ট ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন বাবা-ছেলে।

ফ্লাইটটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে রাতে জেদ্দায় পৌঁছায়। সেখান থেকে মক্কার উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথে আবদুল লতিফ বারবার সময় দেখছিলেন এবং দ্রুত মক্কায় পৌঁছানোর জন্য চালককে অনুরোধ করছিলেন। ছেলে আরসালানের ভাষ্য, তখন তিনি বলছিলেন, শরীর ভালোই আছে, শুধু যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘর দেখতে চান।

বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় মক্কার হোটেলে পৌঁছান তারা। সেখানে বিশ্রাম না নিয়ে দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য ছেলেকে অনুরোধ করেন আবদুল লতিফ।

আরসালান জানান, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর বাবার মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন। একপর্যায়ে মাতাফে গিয়ে প্রথমবারের মতো কাবা শরিফের দিকে তাকান আবদুল লতিফ।

কাবা শরিফ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তে বসে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে মসজিদুল হারামে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত তার কাছে ছুটে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর মসজিদুল হারামে তার মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ১৫০ গ্যাসকূপ খননের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর 

কাবা শরীফে দিকে তাকিয়ে আল্লাহু আকবর বলার পরই মৃত্যু

আপডেট সময় ০৪:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশের মাত্র চার দিনের মাথায় সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর মসজিদুল হারামেই ইন্তেকাল করেছেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের হাজি আবদুল লতিফ ওরফে বাও।

বুধবার ভোরে মক্কার মসজিদুল হারামে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেসরকারি স্কুলে বই সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে হঠাৎ ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরা ভিসার জন্য আবেদন করেন তারা। গত ১১ আগস্ট ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন বাবা-ছেলে।

ফ্লাইটটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে রাতে জেদ্দায় পৌঁছায়। সেখান থেকে মক্কার উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথে আবদুল লতিফ বারবার সময় দেখছিলেন এবং দ্রুত মক্কায় পৌঁছানোর জন্য চালককে অনুরোধ করছিলেন। ছেলে আরসালানের ভাষ্য, তখন তিনি বলছিলেন, শরীর ভালোই আছে, শুধু যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘর দেখতে চান।

বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় মক্কার হোটেলে পৌঁছান তারা। সেখানে বিশ্রাম না নিয়ে দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য ছেলেকে অনুরোধ করেন আবদুল লতিফ।

আরসালান জানান, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর বাবার মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন। একপর্যায়ে মাতাফে গিয়ে প্রথমবারের মতো কাবা শরিফের দিকে তাকান আবদুল লতিফ।

কাবা শরিফ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তে বসে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে মসজিদুল হারামে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত তার কাছে ছুটে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর মসজিদুল হারামে তার মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।