ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল: চট্টগ্রাম জামায়াত আমির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় দিবসের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পোড়াল দুর্বৃত্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত ইতিহাসের ৯০ শতাংশই কল্পকাহিনী: আমির হামজা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি: নাহিদ চাকসু ভিপিকে মারতে তেড়ে আসলেন ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আমার কাছে অনেক রাতে আসতেন, সকালে চলে যেতেন: রিমান্ডে স্ত্রী সামিয়া চব্বিশের আন্দোলনকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা: উপদেষ্টা শারমীন

নেতানিয়াহু ঘোষণা: পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না, বসতি দ্বিগুণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৬১ বার পড়া হয়েছে

 

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে যাচ্ছি এখানে কোনও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না। এই ভূমি আমাদের। তিনি আরও ঘোষণা দেন, মালে আদুমিম শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।

 

“ইস্ট-ওয়ান” (E1) নামে পরিচিত ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশ কার্যত পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং সেখানে ইসরায়েলি বসতিগুলো আরও সংযুক্ত হয়ে পড়বে।

 

পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে থাকে। ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সব বসতিই আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তির কোনো পথ নেই। তিনি নেতানিয়াহুর পদক্ষেপকে পুরো অঞ্চলকে “অন্ধকার গভীর খাদে ঠেলে দেয়া” হিসেবে আখ্যা দেন।

 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের ১৪৯টি সদস্য রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যারা এখনও দেয়নি, তাদের দ্রুত স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানান।

 

দীর্ঘ সময় ধরেই দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের পক্ষে নেতানিয়াহু। আগে থেকেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সব প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। এ ছাড়া অসলো চুক্তিতে স্বাক্ষরের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে আশা জেগেছিল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে।

 

১৯৯৭ সালে ইসরায়েলে প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নেতানিয়াহু। তখন তিনি পূর্ব জেরুজালেমে হার হোমা নামের বসতি স্থাপনে সহায়তা করেছিলেন বলে সিএনএনের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এনআরজিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কখনোই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন হবে না।

 

সম্প্রতি একই ধরনের কথা বলেছিলেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ। তাঁর ভাষ্যমতে, পশ্চিম তীরে ‘ই-১’ নামের একটি বসতির মতো বিভিন্ন অবৈধ বসতিগুলো মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলতে সহায়তা করবে। স্মোতরিচ বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কিছু নেই এবং স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কেউ নেই।’

 

এরই মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তাতে পশ্চিম তীর থেকে দ্রুত ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, নতুন বসতি স্থাপন বন্ধ এবং এরই মধ্যে যাঁরা বসতি স্থাপন করেছেন, তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলা হয়। ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল শতাধিক দেশ। আর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া দেশের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪।

 

এ ছাড়া চলতি মাসে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও মাল্টা। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ আরও বেশ কিছু দেশ শর্তের আওতায় ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছে। যদিও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশগুলো সেটি করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

 

সহিংসতার মাঝেই নতুন পরিকল্পনা

 

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের খবর যখন সামনে এল, তখন সেখান সহিংসতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। গত সোমবার জেরুজেলেমে গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হন। সেখানকার রামোত এলাকায় দুই ফিলিস্তিনি গুলি চালানোর পর এ ঘটনা ঘটে। আহত হন বেশ কয়েকজন। এরপর ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, পশ্চিম তীরের তুলকারেম এলাকা থেকে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক হামলায় দুজন ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গাজা উপত্যকায়ও চলছে ইসরায়েলের নৃশংস হামলা। সেখানে গত ২৩ মাসে ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনে হত্যা করা হয়েছে। আহত ১ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

নেতানিয়াহু ঘোষণা: পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না, বসতি দ্বিগুণ

আপডেট সময় ০২:৫০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে যাচ্ছি এখানে কোনও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না। এই ভূমি আমাদের। তিনি আরও ঘোষণা দেন, মালে আদুমিম শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।

 

“ইস্ট-ওয়ান” (E1) নামে পরিচিত ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশ কার্যত পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং সেখানে ইসরায়েলি বসতিগুলো আরও সংযুক্ত হয়ে পড়বে।

 

পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে থাকে। ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সব বসতিই আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তির কোনো পথ নেই। তিনি নেতানিয়াহুর পদক্ষেপকে পুরো অঞ্চলকে “অন্ধকার গভীর খাদে ঠেলে দেয়া” হিসেবে আখ্যা দেন।

 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের ১৪৯টি সদস্য রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যারা এখনও দেয়নি, তাদের দ্রুত স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানান।

 

দীর্ঘ সময় ধরেই দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের পক্ষে নেতানিয়াহু। আগে থেকেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সব প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। এ ছাড়া অসলো চুক্তিতে স্বাক্ষরের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে আশা জেগেছিল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে।

 

১৯৯৭ সালে ইসরায়েলে প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নেতানিয়াহু। তখন তিনি পূর্ব জেরুজালেমে হার হোমা নামের বসতি স্থাপনে সহায়তা করেছিলেন বলে সিএনএনের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এনআরজিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কখনোই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন হবে না।

 

সম্প্রতি একই ধরনের কথা বলেছিলেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ। তাঁর ভাষ্যমতে, পশ্চিম তীরে ‘ই-১’ নামের একটি বসতির মতো বিভিন্ন অবৈধ বসতিগুলো মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলতে সহায়তা করবে। স্মোতরিচ বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কিছু নেই এবং স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কেউ নেই।’

 

এরই মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তাতে পশ্চিম তীর থেকে দ্রুত ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, নতুন বসতি স্থাপন বন্ধ এবং এরই মধ্যে যাঁরা বসতি স্থাপন করেছেন, তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলা হয়। ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল শতাধিক দেশ। আর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া দেশের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪।

 

এ ছাড়া চলতি মাসে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও মাল্টা। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ আরও বেশ কিছু দেশ শর্তের আওতায় ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছে। যদিও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশগুলো সেটি করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

 

সহিংসতার মাঝেই নতুন পরিকল্পনা

 

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের খবর যখন সামনে এল, তখন সেখান সহিংসতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। গত সোমবার জেরুজেলেমে গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হন। সেখানকার রামোত এলাকায় দুই ফিলিস্তিনি গুলি চালানোর পর এ ঘটনা ঘটে। আহত হন বেশ কয়েকজন। এরপর ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, পশ্চিম তীরের তুলকারেম এলাকা থেকে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক হামলায় দুজন ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গাজা উপত্যকায়ও চলছে ইসরায়েলের নৃশংস হামলা। সেখানে গত ২৩ মাসে ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনে হত্যা করা হয়েছে। আহত ১ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি।