ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: দাবি গবেষকের কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে দুদিন ধরে মাইকিং যুবকের জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রের আইনি বৈধতা নেই: হাইকোর্ট ইসলামের নামে যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারা সর্বোচ্চ মাসুদ হওয়ার যোগ্য: রাশেদ খাঁন নতুন হামলা হলে সৌদিতে আরও গভীরে হামলার হুঁশিয়ারি সীমান্তের বিরোধ নিয়ে মোদী- শি জিনপিং বৈঠক, ভারত-চীনের মতপার্থক্য ওরা পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চায়: শুভেন্দু বিশ্বনেতারা যাবেন বলে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো নয়াদিল্লির বস্তি মোদী আয়োজিত নৈশভোজে গেলেন না জিনপিং! দম থাকলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করুন, নাগরিকদের মারবেন না: যুক্তরাষ্ট্রকে পেজেশকিয়ান

এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: দাবি গবেষকের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি নিরাপত্তা গবেষক ইভান হাবিঙ্গার। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা মানুষের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠবে। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান এআই মডেল থেকে তৈরি ঝুঁকি এখনো তুলনামূলক কম হলেও প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এআই এমন ক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা বিষয়ক এই শীর্ষ গবেষক এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে সমস্ত মানুষকে হত্যা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। তবে হাবিঙ্গার তার বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি কীভাবে এআই মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু তার এই মন্তব্য ঘিরে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে আলোচনার মূল বিষয় আর এআইয়ের ঝুঁকি আছে কি না বরং সেই ঝুঁকির মাত্রা কতটা বড় হতে পারে, তা নিয়ে।

হাবিঙ্গারের মন্তব্যটি এসেছে অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্টের পর। জেকব কক্সন অভিযোগ করেন, কোনো এআই প্রতিষ্ঠানই যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। কক্সন বলেন, ভবিষ্যতের এআই সিস্টেম এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করা, দ্রুত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা এবং বিপুল ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের সক্ষমতা রাখবে। হাবিঙ্গার বলেন, এআইয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা বা সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনো কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি মনে করেন, এআইকে মানুষের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার যে প্রক্রিয়া বা এআই অ্যালাইনমেন্ট, সেটি এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।

তিনি বলেন, এআইয়ের উন্নয়নের গতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে সমস্যাটি বোঝার আগেই বিশ্ব বড় ধরনের সংকটে পড়ে যেতে পারে। অ্যানথ্রোপিকের এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলছেন, অত্যন্ত সক্ষম এআইয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কী ধরনের সক্ষমতা অর্জন করবে। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের কাছে অ্যানথ্রোপিক তাদের সর্বশেষ মডেল সরবরাহ করেনি বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। তবে এ বিষয়ে অ্যানথ্রোপিক কোনো মন্তব্য করেনি।

জাতিসংঘের এআই বিষয়ক পরামর্শক কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি হাবিঙ্গার ও কক্সনের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন বক্তব্য একদিকে প্রযুক্তির প্রকৃত ঝুঁকি তুলে ধরছে, আবার অন্যদিকে এগুলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচারণার অংশও হতে পারে। ডেম ওয়েন্ডি বলেন, বিনিয়োগকারী ও সরকারগুলোর উচিত এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। সাবেক ব্রিটিশ সরকারের কর্মকর্তা ড্যারেন জোন্স এআই নিরাপত্তার জন্য নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য বিপদ হয়ে না দাঁড়ায়।

টাকা দিলেই কিউ১ জার্নালে গবেষণাপত্র, ফেসবুকে জমজমাটপেপার মিলব্যবসা এদিকে ওপেনএআই, গুগল ডিপমাইন্ড ও অ্যানথ্রোপিকসহ বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরাও এর আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানুষের জীবন সহজ করার পাশাপাশি সাইবার হামলা, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তিটির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা জরুরি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: দাবি গবেষকের

এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: দাবি গবেষকের

আপডেট সময় ১২:১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি নিরাপত্তা গবেষক ইভান হাবিঙ্গার। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা মানুষের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠবে। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান এআই মডেল থেকে তৈরি ঝুঁকি এখনো তুলনামূলক কম হলেও প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এআই এমন ক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা বিষয়ক এই শীর্ষ গবেষক এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে সমস্ত মানুষকে হত্যা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। তবে হাবিঙ্গার তার বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি কীভাবে এআই মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু তার এই মন্তব্য ঘিরে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে আলোচনার মূল বিষয় আর এআইয়ের ঝুঁকি আছে কি না বরং সেই ঝুঁকির মাত্রা কতটা বড় হতে পারে, তা নিয়ে।

হাবিঙ্গারের মন্তব্যটি এসেছে অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্টের পর। জেকব কক্সন অভিযোগ করেন, কোনো এআই প্রতিষ্ঠানই যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। কক্সন বলেন, ভবিষ্যতের এআই সিস্টেম এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করা, দ্রুত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা এবং বিপুল ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের সক্ষমতা রাখবে। হাবিঙ্গার বলেন, এআইয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা বা সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনো কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি মনে করেন, এআইকে মানুষের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার যে প্রক্রিয়া বা এআই অ্যালাইনমেন্ট, সেটি এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।

তিনি বলেন, এআইয়ের উন্নয়নের গতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে সমস্যাটি বোঝার আগেই বিশ্ব বড় ধরনের সংকটে পড়ে যেতে পারে। অ্যানথ্রোপিকের এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলছেন, অত্যন্ত সক্ষম এআইয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কী ধরনের সক্ষমতা অর্জন করবে। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের কাছে অ্যানথ্রোপিক তাদের সর্বশেষ মডেল সরবরাহ করেনি বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। তবে এ বিষয়ে অ্যানথ্রোপিক কোনো মন্তব্য করেনি।

জাতিসংঘের এআই বিষয়ক পরামর্শক কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি হাবিঙ্গার ও কক্সনের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন বক্তব্য একদিকে প্রযুক্তির প্রকৃত ঝুঁকি তুলে ধরছে, আবার অন্যদিকে এগুলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচারণার অংশও হতে পারে। ডেম ওয়েন্ডি বলেন, বিনিয়োগকারী ও সরকারগুলোর উচিত এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। সাবেক ব্রিটিশ সরকারের কর্মকর্তা ড্যারেন জোন্স এআই নিরাপত্তার জন্য নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য বিপদ হয়ে না দাঁড়ায়।

টাকা দিলেই কিউ১ জার্নালে গবেষণাপত্র, ফেসবুকে জমজমাটপেপার মিলব্যবসা এদিকে ওপেনএআই, গুগল ডিপমাইন্ড ও অ্যানথ্রোপিকসহ বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরাও এর আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানুষের জীবন সহজ করার পাশাপাশি সাইবার হামলা, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তিটির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা জরুরি।