ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি? ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বললেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান আইনমন্ত্রীর পরিচয়ে প্রতারণা করতেন আতিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে বায়ুদূষণ সতর্কতা ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাস চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের হানা, কনের মাকে জরিমানা লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার অন্য আসামিদের মতোই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

চরমোনাইয়ের জন্য এক ডজনের বেশি প্রার্থী না দিয়ে বিপাকে জামায়াত!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৭৪২ বার পড়া হয়েছে

এবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে । চরমোনাইর পীরের কারণে মূলত জোটগত নির্বাচন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও চরমোনাই তাতে নাখোশ। এদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রাথমিক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চরমোনাইর পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে তাদের কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই ছাড়ের ফলে দল দুটি জামায়াতের সঙ্গে বার্গেনিং-এর বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

চরমোনাইর পির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী অন্দোলনের ধারণা, দেশব্যাপী তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই তারা আরও বেশি আসনের দাবিদার। এই অবস্থানে তারা অনড় থাকায় দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছা যায়নি। এমনকি জামায়াত ৪০ অসনের পর কিছু আসন উন্মুক্ত রাখতেও রাজি ছিল, কিন্তু চরমোনাই তাতেও রাজি না হওয়ায় ভাঙনের মুখে পড়েছে জোট । এদিকে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ায় তারাও বেশি আসন দাবি করছে। তাদের সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত বনিবনা এখনো হয়নি। শেষ পর্যন্ত দল দুটি ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচন করতে পারে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি শেষ করে ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা সফল হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

আট দলীয় ইসলামী জোটের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত আন্দোলন করে আসছিল এবং জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পরই ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এনসিপিসহ নতুন তিন দলের সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য হওয়ার পর থেকেই জামায়াত জোটে ইসলামি অন্য দলগুলোর গুরুত্ব কমতে থাকে। ভাগে কম সিট পাওয়ার ভয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহও কমতে থাকে। কারণ তারা বুঝতে পারে, এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় তাদের পক্ষে জামায়াতকে চাপে রাখার শক্তিও কমে গেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরদিন দেখা যায় ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সময় কম পাওয়ায় এটা হয়েছে। আলোচনা করে তারা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করবেন। এনিসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দেয় জামায়াত। এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ অসন মেনে নিয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বে আট ইসলামি দলের জোটে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে।

এর আগে রোববার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩০ আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এছাড়া গতকাল শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইভাবে খেলাফত মজলিসকে আগের চেয়ে বাড়িয়ে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, এবি পার্টি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে দুটি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলনকে আসন দেওয়া হয়েছে কিনা, নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি?

চরমোনাইয়ের জন্য এক ডজনের বেশি প্রার্থী না দিয়ে বিপাকে জামায়াত!

আপডেট সময় ১২:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

এবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে । চরমোনাইর পীরের কারণে মূলত জোটগত নির্বাচন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও চরমোনাই তাতে নাখোশ। এদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রাথমিক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চরমোনাইর পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে তাদের কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই ছাড়ের ফলে দল দুটি জামায়াতের সঙ্গে বার্গেনিং-এর বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

চরমোনাইর পির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী অন্দোলনের ধারণা, দেশব্যাপী তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই তারা আরও বেশি আসনের দাবিদার। এই অবস্থানে তারা অনড় থাকায় দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছা যায়নি। এমনকি জামায়াত ৪০ অসনের পর কিছু আসন উন্মুক্ত রাখতেও রাজি ছিল, কিন্তু চরমোনাই তাতেও রাজি না হওয়ায় ভাঙনের মুখে পড়েছে জোট । এদিকে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ায় তারাও বেশি আসন দাবি করছে। তাদের সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত বনিবনা এখনো হয়নি। শেষ পর্যন্ত দল দুটি ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচন করতে পারে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি শেষ করে ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা সফল হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

আট দলীয় ইসলামী জোটের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত আন্দোলন করে আসছিল এবং জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পরই ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এনসিপিসহ নতুন তিন দলের সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য হওয়ার পর থেকেই জামায়াত জোটে ইসলামি অন্য দলগুলোর গুরুত্ব কমতে থাকে। ভাগে কম সিট পাওয়ার ভয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহও কমতে থাকে। কারণ তারা বুঝতে পারে, এনসিপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় তাদের পক্ষে জামায়াতকে চাপে রাখার শক্তিও কমে গেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরদিন দেখা যায় ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সময় কম পাওয়ায় এটা হয়েছে। আলোচনা করে তারা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করবেন। এনিসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দেয় জামায়াত। এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ অসন মেনে নিয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বে আট ইসলামি দলের জোটে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে।

এর আগে রোববার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩০ আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এছাড়া গতকাল শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইভাবে খেলাফত মজলিসকে আগের চেয়ে বাড়িয়ে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, এবি পার্টি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে দুটি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলনকে আসন দেওয়া হয়েছে কিনা, নিশ্চিত হওয়া যায়নি।