ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সরাসরি সংঘাত হতে পারে: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি শি জিনপিংয়ের লাশ হয়ে ফিরলেন মেজরসহ ৫ পাকিস্তানি সেনা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিলারের বৈঠক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল, জয় বাংলা স্লোগানে বিদায় ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ‘থার্ড টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে দেড় থেকে দ্বিগুণ’ স্থায়ী জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চীনের সহায়তায় বন্ধ কারাখানা চালু করতে চায় সরকার: শিল্পমন্ত্রী সংসদ ভবনে ডা. শফিকুর রহমান-ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ভারতে ভয়াবহ ঝড়ে প্রাণ গেল ৩৩ জনের

এশিয়ার সবেচেয়ে দুর্বলতম মুদ্রা ভারতীয় রুপি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

এবার বৈদেশিক ঋণের চাপ, আমদানিকারকদের ডলার চাহিদা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। ফলে চলতি বছরে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে রুপি। বুধবার (১৩ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৭৯৫০। এর আগের দিন রুপির সর্বনিম্ন দর ছিলো ৯৫ দশমিক ৭৩৭৫।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এতে ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েছে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুপির মান ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। ভারত যেহেতু বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ, তাই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে সরাসরি পড়ছে। বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই আমদানিনির্ভর।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও রুপার আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে ভারত সরকার। বার্কলেজের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে রুপিকে রক্ষা করতে সুদের হার বাড়ানো হবে একেবারে শেষ বিকল্প। বার্কলেজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৬ দশমিক ৮০ পর্যন্ত দুর্বল হতে পারে।

এদিকে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা মঙ্গলবার বলেন, সাময়িক সরবরাহ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ভারতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে সরকারকে জ্বালানির মূল্য বাড়াতে হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সরাসরি সংঘাত হতে পারে: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি শি জিনপিংয়ের

এশিয়ার সবেচেয়ে দুর্বলতম মুদ্রা ভারতীয় রুপি

আপডেট সময় ১০:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

এবার বৈদেশিক ঋণের চাপ, আমদানিকারকদের ডলার চাহিদা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। ফলে চলতি বছরে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে রুপি। বুধবার (১৩ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৭৯৫০। এর আগের দিন রুপির সর্বনিম্ন দর ছিলো ৯৫ দশমিক ৭৩৭৫।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এতে ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েছে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুপির মান ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। ভারত যেহেতু বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ, তাই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে সরাসরি পড়ছে। বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই আমদানিনির্ভর।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও রুপার আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে ভারত সরকার। বার্কলেজের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে রুপিকে রক্ষা করতে সুদের হার বাড়ানো হবে একেবারে শেষ বিকল্প। বার্কলেজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৬ দশমিক ৮০ পর্যন্ত দুর্বল হতে পারে।

এদিকে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা মঙ্গলবার বলেন, সাময়িক সরবরাহ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ভারতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে সরকারকে জ্বালানির মূল্য বাড়াতে হতে পারে।