ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

পারমাণবিক হামলা হলে সব মার্কিন ঘাঁটি দখল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

আইআরজিসি জেনারেল ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ রেজা নাকদি বলেছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বোঝানো হবে—ইরানের ওপর হামলা চালালে এর জন্য বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। তবে শুধু তাঁর মেয়াদ পর্যন্ত যুদ্ধ চালানোই ইরানের লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, মূল লক্ষ্য এমন একটি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু ইরানের ওপর হামলার সাহস না পায়।

তিনি বলেন, এর একটি উপায় হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু করে তোলা। এতে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অন্য যে কোনো দেশকে সম্ভাব্য মূল্য বিবেচনা করতে হবে।

পারমাণবিক হামলা নিয়ে হুঁশিয়ারি

চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেন নাকদি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলে সেটি তাদের জন্য ‘বড় ভুল’ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে ইরান নিজে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, এ ধরনের অস্ত্রের কোনো প্রয়োজন ইরানের নেই। তাঁর দাবি, ইরানের শক্তি তাদের জনগণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে।

‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়ে ব্যাখ্যা

ইরানের ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়েও কথা বলেন আইআরজিসির এই জেনারেল। তিনি দাবি করেন, এই স্লোগান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং মার্কিন নেতৃত্ব ও প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে।

তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থবির

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাতেও কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে সম্মত হওয়া একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করা এবং তা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও কোনো সমঝোতা হয়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু ছাত্রদল থেকে নয়: নাছির

পারমাণবিক হামলা হলে সব মার্কিন ঘাঁটি দখল

আপডেট সময় ১১:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

আইআরজিসি জেনারেল ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ রেজা নাকদি বলেছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বোঝানো হবে—ইরানের ওপর হামলা চালালে এর জন্য বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। তবে শুধু তাঁর মেয়াদ পর্যন্ত যুদ্ধ চালানোই ইরানের লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, মূল লক্ষ্য এমন একটি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু ইরানের ওপর হামলার সাহস না পায়।

তিনি বলেন, এর একটি উপায় হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু করে তোলা। এতে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অন্য যে কোনো দেশকে সম্ভাব্য মূল্য বিবেচনা করতে হবে।

পারমাণবিক হামলা নিয়ে হুঁশিয়ারি

চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেন নাকদি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলে সেটি তাদের জন্য ‘বড় ভুল’ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে ইরান নিজে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, এ ধরনের অস্ত্রের কোনো প্রয়োজন ইরানের নেই। তাঁর দাবি, ইরানের শক্তি তাদের জনগণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে।

‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়ে ব্যাখ্যা

ইরানের ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়েও কথা বলেন আইআরজিসির এই জেনারেল। তিনি দাবি করেন, এই স্লোগান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং মার্কিন নেতৃত্ব ও প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে।

তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থবির

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাতেও কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে সম্মত হওয়া একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করা এবং তা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও কোনো সমঝোতা হয়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।