ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নতুন ১৫০ গ্যাসকূপ খননের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর  প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নি’হ’ত ফিরোজার পরিবারকে গাভী দিল উপজেলা প্রশাসন বিবাহ-তালাক নিবন্ধনের ডিজিটাইজেশন হচ্ছে, কমবে বাল্যবিয়ে ও বহুবিবাহ: আইনমন্ত্রী ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বজ্রপাতে আগুন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দলীয় লোক দিয়ে দুদক গঠন করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ জিয়াউর রহমান ঘোষণা না দিলে দেশ স্বাধীন হতো কি না সন্দেহ আছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী  চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে হতে পারে: সারজিস

রেকর্ড গরমে মাটির নিচেই ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ ইস্যুতে আপাতত আটকে না থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকসের বৈঠকের আগেই পাঁচ মাস আগে পাঠানো আমন্ত্রণে ঢাকা ইতিবাচক সাড়া দিক—এমনটাই চাইছে ভারত।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকার জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক উপহারের ইঙ্গিতও দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা হলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সুযোগ অদূর ভবিষ্যতে পাওয়া কঠিন হতে পারে—এমন বার্তাও রয়েছে।

ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন বল ঢাকার কোর্টে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে তৈরি অস্বস্তিকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখতে চাইছে না ভারত। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন বাস্তবতায় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় নয়াদিল্লি। আর সেই প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, প্রায় পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। তবে এখনো সেই আমন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি ঢাকা। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকস বৈঠকের সময় ঘনিয়ে আসছে। ফলে তার আগেই তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফর করলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, সফরটি হলে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নদীর পানি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হবে।

এদিকে, নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে কোনো কঠোর বার্তা না দিয়ে বরং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। এরই একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ভারতের রাজ্যসভায় দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংয়ের বক্তব্যে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্প নিয়ে ভারত বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের রেল ও সড়ক যোগাযোগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে বাংলাদেশ একাধিকবার ভারতের কাছে দাবি জানিয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যাতে দ্রুত প্রত্যার্পণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত চাইছে, একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আটকে না রেখে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে। আর সেই প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।

সূত্রের দাবি, তারেক রহমান আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে তাকে নয়াদিল্লিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্বাগত জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ঢাকার জন্য একটি ‘অভাবনীয়’ কূটনৈতিক উপহারের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

তবে সফরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সুযোগ দ্রুত পাওয়া কঠিন হতে পারে বলেও কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, ঢাকা কোন পথ বেছে নেয়। তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। আর সফর না হলে বর্তমান অস্বস্তি আরও কিছুদিন বহাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ ইস্যুর পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তারেক রহমানের ভারত সফর। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকস বৈঠকের আগে সেই সফর আদৌ হচ্ছে কি না—সেদিকেই নজর দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ১৫০ গ্যাসকূপ খননের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর 

রেকর্ড গরমে মাটির নিচেই ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু

আপডেট সময় ০৩:০০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ ইস্যুতে আপাতত আটকে না থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকসের বৈঠকের আগেই পাঁচ মাস আগে পাঠানো আমন্ত্রণে ঢাকা ইতিবাচক সাড়া দিক—এমনটাই চাইছে ভারত।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকার জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক উপহারের ইঙ্গিতও দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা হলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সুযোগ অদূর ভবিষ্যতে পাওয়া কঠিন হতে পারে—এমন বার্তাও রয়েছে।

ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন বল ঢাকার কোর্টে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে তৈরি অস্বস্তিকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখতে চাইছে না ভারত। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন বাস্তবতায় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় নয়াদিল্লি। আর সেই প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, প্রায় পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। তবে এখনো সেই আমন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি ঢাকা। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকস বৈঠকের সময় ঘনিয়ে আসছে। ফলে তার আগেই তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফর করলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, সফরটি হলে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নদীর পানি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হবে।

এদিকে, নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে কোনো কঠোর বার্তা না দিয়ে বরং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। এরই একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ভারতের রাজ্যসভায় দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংয়ের বক্তব্যে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্প নিয়ে ভারত বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের রেল ও সড়ক যোগাযোগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে বাংলাদেশ একাধিকবার ভারতের কাছে দাবি জানিয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যাতে দ্রুত প্রত্যার্পণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত চাইছে, একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আটকে না রেখে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে। আর সেই প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।

সূত্রের দাবি, তারেক রহমান আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে তাকে নয়াদিল্লিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্বাগত জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ঢাকার জন্য একটি ‘অভাবনীয়’ কূটনৈতিক উপহারের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

তবে সফরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সুযোগ দ্রুত পাওয়া কঠিন হতে পারে বলেও কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, ঢাকা কোন পথ বেছে নেয়। তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। আর সফর না হলে বর্তমান অস্বস্তি আরও কিছুদিন বহাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ ইস্যুর পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তারেক রহমানের ভারত সফর। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকস বৈঠকের আগে সেই সফর আদৌ হচ্ছে কি না—সেদিকেই নজর দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের।