ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে দেশটির পরমাণু অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, সংঘাত শুরুর পর তেলের দাম যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা। এরপরের অগ্রাধিকার হচ্ছে, ইরান যেন কখনো পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে দ্য ডন এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা থমকে যাওয়ায় তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিতও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে। তার ভাষ্য, দেশটির ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৩ ডলার বা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৮১ ডলারে ওঠে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মাসিক গড়ের তুলনায়ও কমে গেছে। একই সময়ে সমুদ্রপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরবিরোধী দাবি করে আসছে।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছে। ঘটনাটিকে ইরানের হামলা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বিশ্ববাজারে নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আর এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দেশের অভ্যন্তরে তেল-গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার বলে স্পষ্ট করেছেন জেডি ভ্যান্স।