ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি নাহিদ-আসিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ছাত্রদল সম্পাদক বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা মেজাজ হারিয়ে মিরাজকে স্টার্ক বললেন— ‘তুমি কিন্তু বাংলাদেশে নেই’ পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে শ্বশুরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রাণ গেল দুজনেরই ৭ সহকারী পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসর ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশীর মরদেহ দেশে ফিরেছে যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০ নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:২০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ খাতে ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন। চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফসি) এবং ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় যৌথভাবে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কর্মশালা আয়োজন করা হবে। প্রতিটি কর্মশালার জন্য চীন ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার করে দেবে। এ অর্থ সভা, আবাসন ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের খরচে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, ইরানি গবেষকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং ইরান সফরকারী চীনা গবেষকদের আবাসনের খরচ বহন করবে ইরানি ফাউন্ডেশন।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীন-ইরানের এই সহযোগিতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরল খনিজ বলতে ১৭টি ধাতুর একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যেগুলোর বিশেষ চৌম্বকীয় ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, রাডার, ব্যাটারি ও আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে বিরল মৃত্তিকার সবচেয়ে বড় মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা চীনের হাতে। শুধু খনিজ উত্তোলন নয়, এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণেও বৈশ্বিক আধিপত্য রয়েছে দেশটির। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল খনিজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বেইজিং।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উত্তেজনার সময় বিরল খনিজ রপ্তানিতে বেইজিংয়ের বিধিনিষেধের কারণে মার্কিন শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছিল। এতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে চীনের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতার বিষয়টিও সামনে আসে।

এ অবস্থায় ইরানের বিরল খনিজ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীনের আগ্রহকে কৌশলগত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ইরানের মজুত ও সম্ভাবনা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য সীমিত, দেশটির ভূতাত্ত্বিক গঠন বিরল খনিজ অনুসন্ধানের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হয়।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক হেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিরল খনিজের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এসব খনিজ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা ইরানের এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।

ফলে চীনের প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা ইরানের বিরল খনিজ খাতকে ভবিষ্যতে শিল্প পর্যায়ে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের এই সহযোগিতা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি

বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৬:২০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ খাতে ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন। চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফসি) এবং ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় যৌথভাবে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কর্মশালা আয়োজন করা হবে। প্রতিটি কর্মশালার জন্য চীন ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার করে দেবে। এ অর্থ সভা, আবাসন ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের খরচে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, ইরানি গবেষকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং ইরান সফরকারী চীনা গবেষকদের আবাসনের খরচ বহন করবে ইরানি ফাউন্ডেশন।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীন-ইরানের এই সহযোগিতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরল খনিজ বলতে ১৭টি ধাতুর একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যেগুলোর বিশেষ চৌম্বকীয় ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, রাডার, ব্যাটারি ও আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে বিরল মৃত্তিকার সবচেয়ে বড় মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা চীনের হাতে। শুধু খনিজ উত্তোলন নয়, এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণেও বৈশ্বিক আধিপত্য রয়েছে দেশটির। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল খনিজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বেইজিং।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উত্তেজনার সময় বিরল খনিজ রপ্তানিতে বেইজিংয়ের বিধিনিষেধের কারণে মার্কিন শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছিল। এতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে চীনের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতার বিষয়টিও সামনে আসে।

এ অবস্থায় ইরানের বিরল খনিজ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীনের আগ্রহকে কৌশলগত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ইরানের মজুত ও সম্ভাবনা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য সীমিত, দেশটির ভূতাত্ত্বিক গঠন বিরল খনিজ অনুসন্ধানের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হয়।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক হেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিরল খনিজের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এসব খনিজ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা ইরানের এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।

ফলে চীনের প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা ইরানের বিরল খনিজ খাতকে ভবিষ্যতে শিল্প পর্যায়ে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের এই সহযোগিতা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।