মঙ্গলবার গাজায় হামাস যোদ্ধারা তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে। তারা জনসমক্ষে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যা ইসরায়েলের এই দাবি অমান্য করে যে—হামাস অস্ত্র না ছাড়লে যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাজা সিটিতে সাতজনকে কৃতদাসের মতো দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে গুলি করা হচ্ছে। হামাস সূত্র ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামাস যোদ্ধারা এখন রাস্তায় আরও সক্রিয় এবং ত্রাণ সরবরাহের প্রধান পথগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
গত সপ্তাহে শান্তি চুক্তি শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি সেনারা আংশিকভাবে শহর ছাড়লেও, ড্রোন হামলায় গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। খান ইউনিসে বিমান হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে, তবে ইসরায়েল জানিয়েছে—“যারা চুক্তি ভঙ্গ করছে, তারাই টার্গেট।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সংসদে ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক ভোর’ ঘোষণা করলেও, শান্তি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতান্যাহু স্পষ্ট করে বলেছেন, হামাস অস্ত্র ছাড়বে এবং গাজা থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেবে—তবেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু হামাস এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
দুই বছরের বিধ্বংসী হামলায় দুর্বল হয়ে পড়া হামাস এখন ধীরে ধীরে পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। তারা সহযোগী, সশস্ত্র লুটপাটকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট করছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার ও পানি সরবরাহ লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
এই শান্তি চুক্তি গত দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের পর একটুখানি স্বস্তি এনেছে। ওই যুদ্ধে হামাসের আক্রমণে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হয়। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রায় ৬৮,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু লাশ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইউনিসেফ জানিয়েছে—শীতের কাপড়, ত্রাণ চাদর ও পারিবারিক হাইজিন কিটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে, এবং সপ্তাহের শেষ নাগাদ তা আরও বাড়বে।
ইসরায়েলে শেষ জীবিত ২০ জন বন্দির মুক্তির পর পরিবারগুলো এখন নিহতদের খবরের অপেক্ষায়। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনারা নিশ্চিত করেছে, হামাস হস্তান্তরিত চারজন বন্দির মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এভাবে গাজায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন বন্দির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর একজনের অবস্থান এখনও অজানা।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























