ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএনপি কখনোই সংস্কারের পক্ষে ছিলো না: নাহিদ ইসলাম ‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে ঢাকার সহযোগিতা চায় নয়াদিল্লি নারীর পোশাক নিয়ে নোংরা মন্তব্য, এমপি মিতুর ফেসবুক পোস্ট ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফারিহার রহস্যে ঘেরা মৃত্যু, স্বামী-শ্বশুরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা স্ত্রী বাবার বাড়ি গেলে স্বামীরা কেন খুশি হয়? বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে? ২ মিলিয়ন ডলারে টিকিট কিনলে নিজেই ‘হটডগ ও কোক’ পৌঁছে দেবেন ইনফান্তিনো দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী হাম ও উপসর্গে আরও ১২ মৃত্যু

আগে গণভোট করার দাবি পূরণ না হলেও জামায়াত সন্তুষ্ট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

 

অন্তর্বর্তী সরকারের এক দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সংকট দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং তার আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গণভোট নির্বাচন-পূর্বে হওয়া জরুরি ছিল।

উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এরপর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এক দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানানো হয়, দলীয় সূত্র জানিয়েছে—পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিশ্চয়তা থাকায় জামায়াত মূলত সন্তুষ্ট।

দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, “সব দাবি পূরণ না হলেও দুটি প্রধান দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে জামায়াত নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি অব্যাহত রাখবে, তবে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রত্যাখ্যান বা এক দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে যাবে না।

জামায়াতের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—রাষ্ট্রপতির বদলে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়ন আদেশ জারি, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের বিষয়গুলো গণভোটে তোলা। এর মধ্যে বেশিরভাগ দাবি পূরণ হলেও আদেশ জারির বিষয়ে দলের দাবি মানা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, “গণআকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নির্বাচনের আগে গণভোট হলে জুলাই সনদ বিষয়ে জনগণের রায় নেওয়া সহজ হতো এবং আইনি ভিত্তিও আরও দৃঢ় হতো। এই সংকট রয়ে গেল।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হামিদ ও এহসানুল মাহবুব যোবায়ের।

গতকাল রাতে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে জুলাই আদেশ এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি কখনোই সংস্কারের পক্ষে ছিলো না: নাহিদ ইসলাম

আগে গণভোট করার দাবি পূরণ না হলেও জামায়াত সন্তুষ্ট

আপডেট সময় ১২:৫২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

 

অন্তর্বর্তী সরকারের এক দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সংকট দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং তার আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গণভোট নির্বাচন-পূর্বে হওয়া জরুরি ছিল।

উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এরপর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এক দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানানো হয়, দলীয় সূত্র জানিয়েছে—পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিশ্চয়তা থাকায় জামায়াত মূলত সন্তুষ্ট।

দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, “সব দাবি পূরণ না হলেও দুটি প্রধান দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে জামায়াত নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি অব্যাহত রাখবে, তবে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রত্যাখ্যান বা এক দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে যাবে না।

জামায়াতের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—রাষ্ট্রপতির বদলে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়ন আদেশ জারি, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের বিষয়গুলো গণভোটে তোলা। এর মধ্যে বেশিরভাগ দাবি পূরণ হলেও আদেশ জারির বিষয়ে দলের দাবি মানা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, “গণআকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নির্বাচনের আগে গণভোট হলে জুলাই সনদ বিষয়ে জনগণের রায় নেওয়া সহজ হতো এবং আইনি ভিত্তিও আরও দৃঢ় হতো। এই সংকট রয়ে গেল।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হামিদ ও এহসানুল মাহবুব যোবায়ের।

গতকাল রাতে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে জুলাই আদেশ এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে।