ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শিবিরের ‘গুপ্ত’ সন্দেহ রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে খেয়ে না খেয়ে কাটছে শত বছরের ছালেহার শেষবেলা: ৬ সন্তান থাকলেও খোঁজ নেওয়ার মতো নেই কেউ! বিলুপ্ত র‌্যাব, নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের আইন ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস হলে মা-বাবার মৃত্যুকামনা করবে সন্তানরা’ জিন্নাহর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে শুটিংয়ে কেঁদেছিলেন ক্রিস্টোফার লি নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের কারখানায় সরবরাহ বেড়েছে, বাসাবাড়িতে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট কাটবে কবে? কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন এনসিপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া সালাউদ্দিন চুরি হওয়া গরু মিলল বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে অজ্ঞান করে ২০ বছর ধরে স্ত্রীকে ধর্ষণ, আদালতে দোষ স্বীকার

খেয়ে না খেয়ে কাটছে শত বছরের ছালেহার শেষবেলা: ৬ সন্তান থাকলেও খোঁজ নেওয়ার মতো নেই কেউ!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচনমেঘ গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা ছালেহা বেগমের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটছে চরম অবহেলা, অভাব-অনটন আর নিঃসঙ্গতায়। বার্ধক্যের কারণে নুয়েপড়া এই নারীর ভাগ্যে জোটে না নিয়মিত খাবার, নেই মাথা গোঁজার মতো সামান্য আশ্রয়ও। আপনজন থেকেও নেই, ফলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা, তীব্র দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি ও শারীরিক যন্ত্রণায় কাটে তার প্রতিটি মুহূর্ত।

বৃদ্ধা ছালেহা বেগম বলেন, ত্রিশ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। তারপর থেকে আমাকে দেখার কেউ নেই। দুই ছেলে ও চার মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেয় না। এখন আর শরীর চলে না। পাড়া-প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে না খেয়েই থাকতে হয়।

সরকারি অনুদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেক আগে বয়স্ক ভাতা পেতেন; কিন্তু ভাতার বইটি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো সাহায্য পাননি।

জানা যায়, উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের সরদার বাড়ির মৃত ওয়াব আলী সরদারের স্ত্রী ছালেহা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একা হয়ে পড়া এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে একটি জীর্ণশীর্ণ খুপরি ঘরে। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে ।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় ছালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে গিয়ে চেয়ে-চিন্তে খেতেন; কিন্তু বয়সের কারণে এখন আর যেতে পারেন না। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারেন না তিনি।

প্রতিবেশী ফয়েজ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে অনেক বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি আছেন। তারা ইচ্ছা করলেই এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু কেউ কখনো তাকায় না। আমরা প্রতিবেশীরা যতটুকু পারি দেখাশোনা করি। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের ছালেহা বেগমের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবিরের ‘গুপ্ত’ সন্দেহ রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

খেয়ে না খেয়ে কাটছে শত বছরের ছালেহার শেষবেলা: ৬ সন্তান থাকলেও খোঁজ নেওয়ার মতো নেই কেউ!

আপডেট সময় ১১:৩১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচনমেঘ গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা ছালেহা বেগমের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটছে চরম অবহেলা, অভাব-অনটন আর নিঃসঙ্গতায়। বার্ধক্যের কারণে নুয়েপড়া এই নারীর ভাগ্যে জোটে না নিয়মিত খাবার, নেই মাথা গোঁজার মতো সামান্য আশ্রয়ও। আপনজন থেকেও নেই, ফলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা, তীব্র দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি ও শারীরিক যন্ত্রণায় কাটে তার প্রতিটি মুহূর্ত।

বৃদ্ধা ছালেহা বেগম বলেন, ত্রিশ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। তারপর থেকে আমাকে দেখার কেউ নেই। দুই ছেলে ও চার মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেয় না। এখন আর শরীর চলে না। পাড়া-প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে না খেয়েই থাকতে হয়।

সরকারি অনুদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেক আগে বয়স্ক ভাতা পেতেন; কিন্তু ভাতার বইটি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো সাহায্য পাননি।

জানা যায়, উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের সরদার বাড়ির মৃত ওয়াব আলী সরদারের স্ত্রী ছালেহা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একা হয়ে পড়া এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে একটি জীর্ণশীর্ণ খুপরি ঘরে। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে ।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় ছালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে গিয়ে চেয়ে-চিন্তে খেতেন; কিন্তু বয়সের কারণে এখন আর যেতে পারেন না। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারেন না তিনি।

প্রতিবেশী ফয়েজ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে অনেক বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি আছেন। তারা ইচ্ছা করলেই এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু কেউ কখনো তাকায় না। আমরা প্রতিবেশীরা যতটুকু পারি দেখাশোনা করি। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের ছালেহা বেগমের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।