ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আফগানিস্তানে ‘আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ মন্ত্রণালয় ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষের ভোট প্রার্থনা, ভিডিও ভাইরাল চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ বাংলাদেশকে সব সময় আপন মনে করে ভার‌ত: প্রণয় ভার্মা মেহেরপুর খোকসা যুব সংঘ এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির দিন শেষ : শাহজাহান উপদেষ্টা আসার আগেই ব্রিজ উদ্বোধনের অনুষ্ঠান পণ্ড ১৫ বছরে দেশ থেকে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে: শিবির সভাপতি আমদানি বন্ধ, আগে বিক্রি হবে দেশের চিনিকলের চিনি: উপদেষ্টা আদিলুর বাবরি মসজিদ নির্মাণে এক ব্যক্তিই দিচ্ছেন ৮০ কোটি টাকা

রাবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্যে উত্তাপ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘ফ্যাসিবাদের ভাষায়’ কথা বলছে এবং তাদের ‘দোসররা’ এখনো প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ‘খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের’ মতো ভুল যেন কেউ না করে। ইসলামী ছাত্রশিবির কারও ভয় করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যদি নব্য ফ্যাসিস্ট কেউ হতে চায়, তবে জুলাইয়ের মতো আবারও আমরা রাস্তায় নামব। মানুষের আজাদীর লড়াই কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও দাবি করেন, “খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার করে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আর ফ্যাসিবাদের দোসরদের যেখানে পাওয়া যাবে, আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।”

বক্তব্যে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত রাজশাহী মহানগর শিবির নেতা আলী রায়হানের ‘শহীদত্ব’ উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেলেও প্রকৃত মুক্তি এখনও আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে ‘গণরুম-গেস্টরুম কালচার’ চালু রেখে ক্যাম্পাসে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো পরিবেশ’ তৈরি করা হয়েছিল এবং ইসলামচর্চা করতেও শিক্ষার্থীরা বাধার মুখে পড়তেন।

তিনি আরও বলেন, “আজ শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ভুলে গিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোতে দাম্ভিকতা দেখা দিচ্ছে। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করে প্রতিবাদ–প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে।”

প্রায় সাড়ে চার দশক পর রাবি ক্যাম্পাসে সরাসরি ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হলো। সর্বশেষ ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসু ও চাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং ইব্রাহিম হোসেন রনি। প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানে ‘আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ মন্ত্রণালয়

রাবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্যে উত্তাপ

আপডেট সময় ০৭:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘ফ্যাসিবাদের ভাষায়’ কথা বলছে এবং তাদের ‘দোসররা’ এখনো প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ‘খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের’ মতো ভুল যেন কেউ না করে। ইসলামী ছাত্রশিবির কারও ভয় করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যদি নব্য ফ্যাসিস্ট কেউ হতে চায়, তবে জুলাইয়ের মতো আবারও আমরা রাস্তায় নামব। মানুষের আজাদীর লড়াই কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও দাবি করেন, “খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার করে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আর ফ্যাসিবাদের দোসরদের যেখানে পাওয়া যাবে, আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।”

বক্তব্যে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত রাজশাহী মহানগর শিবির নেতা আলী রায়হানের ‘শহীদত্ব’ উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেলেও প্রকৃত মুক্তি এখনও আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে ‘গণরুম-গেস্টরুম কালচার’ চালু রেখে ক্যাম্পাসে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো পরিবেশ’ তৈরি করা হয়েছিল এবং ইসলামচর্চা করতেও শিক্ষার্থীরা বাধার মুখে পড়তেন।

তিনি আরও বলেন, “আজ শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ভুলে গিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোতে দাম্ভিকতা দেখা দিচ্ছে। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করে প্রতিবাদ–প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে।”

প্রায় সাড়ে চার দশক পর রাবি ক্যাম্পাসে সরাসরি ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হলো। সর্বশেষ ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসু ও চাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং ইব্রাহিম হোসেন রনি। প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।