জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আজ অনেকের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। তবে পদত্যাগ নয়, দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা প্রমাণ করাই এখন বেশি জরুরি। যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা দেখা যায়, তাহলে মনে রাখতে হবে—৫ আগস্ট বারবার ফিরে আসতে পারে। যদিও সেটি কারও কাম্য নয়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্যে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বর্তমানে যে কমিশনের হাতে কার্যত দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে, সেই কমিশনের প্রধানের এমন বক্তব্য জাতিকে আহত করেছে। এ বিষয়ে সিইসির কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিইসির বক্তব্যে জাতির মনে যে দুঃখ সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্বও তাকেই নিতে হবে। তিনি উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, সেটিও প্রমাণ করতে হবে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে। দেরি না করে জাতির সামনে তার বক্তব্য স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যাখ্যা দিলে জাতির দুঃখ দূর হতে পারে, আর না হলে জাতিই তার সিদ্ধান্ত নেবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কারও কাছ থেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়। সকল ক্ষেত্রেই জাতি দায়িত্বপূর্ণ আচরণ দেখতে চায়।
শরীফ ওসমান হাদির চিকিৎসা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার চিকিৎসায় যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটির জন্য সরকার সাধুবাদের যোগ্য। তবে তিনি এও বলেন, এমন পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে—যেখানে তরুণ বিপ্লবীরা আহত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তারপর সরকার নড়েচড়ে বসে। এই দুঃশাসন ও দুঃসাহস যেন কেউ দেখাতে না পারে, সে জন্য সরকারকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আহত ও শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বিভেদ ভুলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতি নতুন বাংলাদেশ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করা হয়নি, ভবিষ্যতেও করা হবে না—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















