ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় নাগরিক সুখরঞ্জন পাবনার সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন ভারতের নাগরিক সুখরঞ্জন চক্রবর্তী। অভিযোগ উঠেছে, তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে শুধু চাকরিই করেননি, শ্বশুরের নামে লিজ নেওয়া সরকারি সম্পত্তিও দখলের চেষ্টা করছেন।

অভিযুক্ত সুখরঞ্জন চক্রবর্তী পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড হিসেবে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের দমদমের সূর্যসেন পল্লি, ৪৬৭ এলাকার নির্মল কুমারের ছেলে। বর্তমানে পাবনা শহরের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের পার্বতীগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা হিসেবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। সুখরঞ্জন চক্রবর্তীর ভারতীয় পরিচয়পত্রের তালিকাভুক্তির নাম্বার ০০০০/০০৮০২/৭৬৩৯৭ এবং আধার কার্ডের নাম্বার ৪০৫০২২৩৪৩৩৫১।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুখরঞ্জন চক্রবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দমদমের বাসিন্দা। তার কাছে ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড রয়েছে। বর্তমানে তিনি পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাবনা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পার্বতীগঞ্জ পাড়ায় তার নামে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রও রয়েছে।

 

সুখরঞ্জনের শ্বশুরের নামে লিজ নেওয়া সরকারি সম্পত্তি নিজের নামে নিতে চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন তার শ্যালক সুমন কুমার রায়। তিনি জানান, তাদের পরিবারের নামে নেওয়া লিজকৃত জমি গোপনে নিজের দখলে নিতে চেষ্টা করছেন সুখরঞ্জন। এতে তাদের পরিবারকেই বাড়িছাড়া করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ কাগজপত্র হাতে এসেছে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অভিযুক্ত শিক্ষক সুখরঞ্জন চক্রবর্তী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব কাগজপত্র বানানো সম্ভব। তিনি দাবি করেন, স্ত্রী-সন্তানরা পারিবারিক ঝামেলার কারণে ভারতে চলে গেছেন এবং তাদের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ নেই। তদন্ত হলে তিনি সব প্রমাণ উপস্থাপন করবেন বলে জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় নাগরিক সুখরঞ্জন পাবনার সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক!

আপডেট সময় ১০:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাবনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন ভারতের নাগরিক সুখরঞ্জন চক্রবর্তী। অভিযোগ উঠেছে, তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে শুধু চাকরিই করেননি, শ্বশুরের নামে লিজ নেওয়া সরকারি সম্পত্তিও দখলের চেষ্টা করছেন।

অভিযুক্ত সুখরঞ্জন চক্রবর্তী পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড হিসেবে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের দমদমের সূর্যসেন পল্লি, ৪৬৭ এলাকার নির্মল কুমারের ছেলে। বর্তমানে পাবনা শহরের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের পার্বতীগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা হিসেবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। সুখরঞ্জন চক্রবর্তীর ভারতীয় পরিচয়পত্রের তালিকাভুক্তির নাম্বার ০০০০/০০৮০২/৭৬৩৯৭ এবং আধার কার্ডের নাম্বার ৪০৫০২২৩৪৩৩৫১।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুখরঞ্জন চক্রবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দমদমের বাসিন্দা। তার কাছে ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র ও আধার কার্ড রয়েছে। বর্তমানে তিনি পাবনা সদর উপজেলার বালিয়াহালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাবনা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পার্বতীগঞ্জ পাড়ায় তার নামে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রও রয়েছে।

 

সুখরঞ্জনের শ্বশুরের নামে লিজ নেওয়া সরকারি সম্পত্তি নিজের নামে নিতে চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন তার শ্যালক সুমন কুমার রায়। তিনি জানান, তাদের পরিবারের নামে নেওয়া লিজকৃত জমি গোপনে নিজের দখলে নিতে চেষ্টা করছেন সুখরঞ্জন। এতে তাদের পরিবারকেই বাড়িছাড়া করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ কাগজপত্র হাতে এসেছে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অভিযুক্ত শিক্ষক সুখরঞ্জন চক্রবর্তী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব কাগজপত্র বানানো সম্ভব। তিনি দাবি করেন, স্ত্রী-সন্তানরা পারিবারিক ঝামেলার কারণে ভারতে চলে গেছেন এবং তাদের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ নেই। তদন্ত হলে তিনি সব প্রমাণ উপস্থাপন করবেন বলে জানান।