ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাপানে প্রথমবার শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ, বেশিরভাগই নারী মাদকের গডফাদার সরকারদলীয় হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী সংকট মোকাবেলায় ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চাইল সৌদি আরব পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ ইরানে বিমানের চাকা ফেটে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি, খুলে পড়ল কেবিনের ছাদ মন্দিরের মেহেদি পরলেই ১ বছরের মধ্যে বিয়ে নিশ্চিত, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি সৌদিতে হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা পাকিস্তানের ‘ভাঁওতাবাজি’: বলছে ভারত

পাওনা টাকা চাওয়ায় কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা করে দুই বন্ধু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে ধানখেতে ফেলে দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন নাজিম উদ্দিন নামে এক আসামি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নাজিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নাজিমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সহযোগী মো. স্বপনের সঙ্গে মিলে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।

পুলিশ জানায়, একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করার সময় ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেখান থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। সম্প্রতি ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত ৭ আগস্ট বিকেলে ওয়াহেদকে বগুড়ার মালগ্রাম এলাকার ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেন নাজিম ও স্বপন। সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কার্যালয়ের অদূরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে দেওয়া হয়।

মরদেহ ফেলে দেওয়ার পর ওই রাতেই তারা কার্যালয়ে অবস্থান করেন। পরদিন সকালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুজনই নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন নাজিম। ঘটনায় জড়িত স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহত ওয়াহেদ হোসেন শহরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে যৌথভাবে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। গত ৭ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রামের একটি ধানখেত থেকে অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রথমে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে স্বজনেরা মরদেহটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে প্রথমবার শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ, বেশিরভাগই নারী

পাওনা টাকা চাওয়ায় কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা করে দুই বন্ধু

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে ধানখেতে ফেলে দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন নাজিম উদ্দিন নামে এক আসামি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নাজিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নাজিমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সহযোগী মো. স্বপনের সঙ্গে মিলে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।

পুলিশ জানায়, একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করার সময় ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেখান থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। সম্প্রতি ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত ৭ আগস্ট বিকেলে ওয়াহেদকে বগুড়ার মালগ্রাম এলাকার ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেন নাজিম ও স্বপন। সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কার্যালয়ের অদূরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে দেওয়া হয়।

মরদেহ ফেলে দেওয়ার পর ওই রাতেই তারা কার্যালয়ে অবস্থান করেন। পরদিন সকালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুজনই নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন নাজিম। ঘটনায় জড়িত স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহত ওয়াহেদ হোসেন শহরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে যৌথভাবে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। গত ৭ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রামের একটি ধানখেত থেকে অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রথমে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে স্বজনেরা মরদেহটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।