ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম, পাত্রী কে? বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষমা চাইলেন বাউলশিল্পী হাসিনা সরকার বাসস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮ ডিএনএ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আপন ভাই কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিক্ষোভের মুখে এমপি আমির হামজা শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কের গুঞ্জন ফের আলোচনায় ১৬ বছরের আগে ফেসবুক-টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ শিক্ষক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সরকার মনে করে সেনাবাহিনীকে আর মাঠে রাখার প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত কিছু ভোলে না, কাউকে ক্ষমাও করে না: ভারতীয় বিমান বাহিনী 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিএনপির বাকি ৬৪ আসনের মনোনয়ন চূড়ান্তে মিত্রদের চাপ, বাড়ছে সমঝোতার জটিলতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩২২ বার পড়া হয়েছে

চলতি মাসের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এর একদিন পর মাদারীপুর-১ আসনের ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। ফলে এখনো ৬৪ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, নভেম্বর মাসের মধ্যেই এসব আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সূত্র জানায়, কয়েকটি আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কিছু আসনে একাধিক হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে দেরি হচ্ছে। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আশা, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

দলীয় নেতারা আরও জানান, তারা চান ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হোক। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা ধরে বিএনপি দ্রুত প্রার্থী তালিকা ও মিত্রদের সঙ্গে আসন-সমঝোতা চূড়ান্তে উদ্যোগ নিয়েছে।

মিত্রদের উদ্বেগ ও সমঝোতার চাপে বিএনপি

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো অভিযোগ করছে, বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় থাকলেও তাদের জোট প্রার্থীদের তালিকা এখনো ঘোষিত হয়নি। এতে তারা প্রচারণা শুরু করতে পারছেন না। অন্যদিকে একই আসনে বিএনপি ও শরিকদের সম্ভাব্য প্রার্থীকে মাঠে দেখায় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি প্রাথমিকভাবে সবুজ সংকেত দিলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হকও অভিযোগ তুলে বলেন, বিএনপি শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় বিলম্ব করছে। এ অবস্থায় শরিকদের সঙ্গে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা না হলে গণতন্ত্র মঞ্চ বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হবে।

বিরোধপূর্ণ আসনে পুনর্মূল্যায়ন

৩ নভেম্বর ঘোষিত তালিকার পর কমপক্ষে ২৩টি আসনে মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ দেখা গেছে। এসব আসনে সমঝোতার চেষ্টা হিসেবে বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি মনোনীত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ আসনে সমাধানের কাজ চলছে। কিছু আসনে এখনো মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি—শিগগিরই সেখানেও প্রার্থী ঘোষণা হবে। তিনি বলেন, সমঝোতা হলে শরিক ও বিএনপি উভয়েই তা জানাবে।

দলীয় সিনিয়র নেতাদের আশা, সব বিরোধ ও সমঝোতা দ্রুতই শেষ হবে এবং সবাই মিলেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করবেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম, পাত্রী কে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিএনপির বাকি ৬৪ আসনের মনোনয়ন চূড়ান্তে মিত্রদের চাপ, বাড়ছে সমঝোতার জটিলতা

আপডেট সময় ০৯:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

চলতি মাসের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এর একদিন পর মাদারীপুর-১ আসনের ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। ফলে এখনো ৬৪ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, নভেম্বর মাসের মধ্যেই এসব আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সূত্র জানায়, কয়েকটি আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কিছু আসনে একাধিক হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে দেরি হচ্ছে। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আশা, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

দলীয় নেতারা আরও জানান, তারা চান ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হোক। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা ধরে বিএনপি দ্রুত প্রার্থী তালিকা ও মিত্রদের সঙ্গে আসন-সমঝোতা চূড়ান্তে উদ্যোগ নিয়েছে।

মিত্রদের উদ্বেগ ও সমঝোতার চাপে বিএনপি

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো অভিযোগ করছে, বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় থাকলেও তাদের জোট প্রার্থীদের তালিকা এখনো ঘোষিত হয়নি। এতে তারা প্রচারণা শুরু করতে পারছেন না। অন্যদিকে একই আসনে বিএনপি ও শরিকদের সম্ভাব্য প্রার্থীকে মাঠে দেখায় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি প্রাথমিকভাবে সবুজ সংকেত দিলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হকও অভিযোগ তুলে বলেন, বিএনপি শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় বিলম্ব করছে। এ অবস্থায় শরিকদের সঙ্গে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা না হলে গণতন্ত্র মঞ্চ বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হবে।

বিরোধপূর্ণ আসনে পুনর্মূল্যায়ন

৩ নভেম্বর ঘোষিত তালিকার পর কমপক্ষে ২৩টি আসনে মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ দেখা গেছে। এসব আসনে সমঝোতার চেষ্টা হিসেবে বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি মনোনীত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ আসনে সমাধানের কাজ চলছে। কিছু আসনে এখনো মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি—শিগগিরই সেখানেও প্রার্থী ঘোষণা হবে। তিনি বলেন, সমঝোতা হলে শরিক ও বিএনপি উভয়েই তা জানাবে।

দলীয় সিনিয়র নেতাদের আশা, সব বিরোধ ও সমঝোতা দ্রুতই শেষ হবে এবং সবাই মিলেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করবেন।