ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাসস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮ ডিএনএ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আপন ভাই কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিক্ষোভের মুখে এমপি আমির হামজা শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কের গুঞ্জন ফের আলোচনায় ১৬ বছরের আগে ফেসবুক-টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ শিক্ষক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সরকার মনে করে সেনাবাহিনীকে আর মাঠে রাখার প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত কিছু ভোলে না, কাউকে ক্ষমাও করে না: ভারতীয় বিমান বাহিনী  কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ এমপি আমির হামজা প্রান্তিক কৃষকদের পাশে ব্র্যাক: বাউফলে ১০০ কৃষকের মাঝে উন্নত বীজ বিতরণ

চবি শিক্ষার্থী হামলা–মাদক–চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে যুবলীগ নেতা হানিফ গং গ্রেপ্তার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, জুলাই আন্দোলনের সময় সহিংসতা উসকে দেওয়া, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বহুমুখী অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন হাটহাজারীর জোবরা গ্রামের আলোচিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ ওরফে হানিফ গং
রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ফতেপুর ইউনিয়নে ‘মাফিয়া’ শক্তি গড়ে ত্রাসের রাজত্ব করে আসছিল এই যুবলীগ নেতা। তার প্রধান সহযোগী ছিলেন ছোট ভাই ইকবাল, যিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়দের অভিযোগ, হানিফ–ইকবাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, গাছ চুরি-বিক্রি, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারি, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল।
হাটহাজারীসহ বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও ‘ম্যানেজমেন্টের’ কারণে এতদিন তারা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রধান ইন্ধনদাতা

গত বছরের ২১ অক্টোবর চবি রেলস্টেশন এলাকায় দোকান দখলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় হানিফের অনুসারীরা—ঘটনায় আহত হন পাঁচ শিক্ষার্থী।
চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী। এক ছাত্রীকে মারধরের জেরে শুরু হওয়া ওই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারীও ছিলেন হানিফ। এসব ঘটনায় চবি প্রশাসন পৃথক মামলা করে, যেখানে তাকে আসামি করা হয়।

দোকান নিয়ন্ত্রণ থেকে ‘অনুমতি ব্যবসা’

রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের জমির অধিকাংশ দোকানের নিয়ন্ত্রণও ছিল হানিফের হাতে। দোকান চালাতে নিয়মিত চাঁদা দেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। নতুন দোকান বা ব্যবসা শুরু করতে হলেও নিতে হতো হানিফের ‘অনুমতি’। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই হত হামলা, ভাঙচুর বা হুমকি।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও আতঙ্কের পর অবশেষে হানিফ গং গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮

চবি শিক্ষার্থী হামলা–মাদক–চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে যুবলীগ নেতা হানিফ গং গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৮:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, জুলাই আন্দোলনের সময় সহিংসতা উসকে দেওয়া, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বহুমুখী অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন হাটহাজারীর জোবরা গ্রামের আলোচিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ ওরফে হানিফ গং
রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ফতেপুর ইউনিয়নে ‘মাফিয়া’ শক্তি গড়ে ত্রাসের রাজত্ব করে আসছিল এই যুবলীগ নেতা। তার প্রধান সহযোগী ছিলেন ছোট ভাই ইকবাল, যিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়দের অভিযোগ, হানিফ–ইকবাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, গাছ চুরি-বিক্রি, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারি, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল।
হাটহাজারীসহ বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও ‘ম্যানেজমেন্টের’ কারণে এতদিন তারা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রধান ইন্ধনদাতা

গত বছরের ২১ অক্টোবর চবি রেলস্টেশন এলাকায় দোকান দখলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় হানিফের অনুসারীরা—ঘটনায় আহত হন পাঁচ শিক্ষার্থী।
চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী। এক ছাত্রীকে মারধরের জেরে শুরু হওয়া ওই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারীও ছিলেন হানিফ। এসব ঘটনায় চবি প্রশাসন পৃথক মামলা করে, যেখানে তাকে আসামি করা হয়।

দোকান নিয়ন্ত্রণ থেকে ‘অনুমতি ব্যবসা’

রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের জমির অধিকাংশ দোকানের নিয়ন্ত্রণও ছিল হানিফের হাতে। দোকান চালাতে নিয়মিত চাঁদা দেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। নতুন দোকান বা ব্যবসা শুরু করতে হলেও নিতে হতো হানিফের ‘অনুমতি’। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই হত হামলা, ভাঙচুর বা হুমকি।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও আতঙ্কের পর অবশেষে হানিফ গং গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।