দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, জুলাই যোদ্ধা কারিনাকে আল্লাহ যেন শহীদের মর্যাদা দান করেন। রোববার (১৭ মে) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। পোস্টে পিনাকী ভট্টাচার্য লেখেন, ‘জুলাই যোদ্ধা কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে জুলাইয়ের সব শক্তি আবার এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। এই দৃশ্য দেখা এক গভীর সান্ত্বনার, এক রহমতের ইশারার মতো।’
তিনি লেখেন, ‘কারিনা নিজের জীবন দিয়া আমাদের আবার মনে করায়ে দিলো, জুলাই কেবল একটা মাসের নাম নয়। জুলাই এক ঐক্যের সিলসিলা, এক মুক্তির আমানত, এক রক্তে লেখা অঙ্গীকার। সে তার জীবন দিয়া আমাদের আবার সেই জুলাইয়ের ঐক্যের স্বাদ দিলো, সেই মুক্তির আনন্দের স্বাদ দিলো, যেখানে ভয় ছিল না, বিভেদ ছিল না, ছিল শুধু জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দুর্দমনীয় সাহস।’
কারিনার জন্য দোয়া করে তিনি আরও লেখেন, ‘আল্লাহ যেন কারিনাকে শহীদের মর্যাদা দান করেন। তার মৃত্যু যেন আমাদের কলহ ধুয়ে দেয়। তার কুরবানি যেন আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে দাঁড় করায়। জুলাই এইভাবেই সকল ফিতনা, সকল বিভাজন, সকল ছোট হিসাবের ওপরে মাথা তুলে দাঁড়াক। জুলাই আবার আমাদের শিখায়ে দিক, জুলুমের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ায়, তারা মরে না। তারা ঐক্যের স্মৃতিতে, জাতির রক্তে, ইনসাফের কাফেলায়, মুক্তির ময়দানে চিরজীবী হয়ে থাকে। কারিনাকে সৃষ্টিকর্তা তার খাস মেহমান হিসাবে কবুল করুন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’
লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কারিনা কায়সারকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। পরে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার গভীর রাতে সেখানেই তিনি মারা যান। এর আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন কারিনা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হয়।
রোববার ( ১৭ মে) ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে বিনা খরচে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, সোমবার মরদেহ নেওয়া হবে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় তার নানার বাড়িতে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























