ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত না ঘটাতে সব দলকে বসার আহ্বান সিইসির ‘এমপি হয়েও ৭ দিন ধরে ডিআইজিকে পাচ্ছি না, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী’ মুসলিমপ্রধান দেশে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি, তথ্য আড়াল রাখতে দুজনকে হত্যা দক্ষিণ কোরিয়ায় আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছার নির্দেশ সিটি করপোরেশন দেয়নি: চসিক মেয়র ভারতে জনসংখ্যা বাড়াতে নগদ টাকা ও ছুটির ঘোষণা রাজ্য সরকারের এবার ভারতকে পরমাণু হামলার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলো পাকিস্তান লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি-এনসিপির মুখোমুখি অবস্থান

ভারতে জনসংখ্যা বাড়াতে নগদ টাকা ও ছুটির ঘোষণা রাজ্য সরকারের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে ১.৪২ বিলিয়ন জনসংখ্যা নিয়ে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হলেও, দেশটিতে জন্মহার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং জনসংখ্যায় বার্ধক্য ও অর্থনৈতিক চাপ এড়াতে এখন বড় পরিবার গঠনের পক্ষে জোর দিচ্ছেন ভারতের নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাসীন দলের মিত্ররা। ছোট পরিবার গঠনের পুরনো নীতি থেকে সরে এসে দম্পতিদের বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে নগদ অর্থ ও দীর্ঘ ছুটির মতো বড় বড় প্রণোদনা ঘোষণা করছে দেশটির বেশ কিছু রাজ্য সরকার।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতে প্রয়োজনীয় প্রজনন হার ২.১ থাকা দরকার। কিন্তু নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ও গর্ভনিরোধকের ব্যবহার বাড়ায় এই হার ১৯৯২ সালের ৩.৪ থেকে কমে বর্তমানে ২এ নেমে এসেছে। যদিও জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দশকে ভারতের জনসংখ্যা ১.৭ বিলিয়নে গিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাবে, তবু এখনই জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও হিন্দু গোষ্ঠীগুলো।

এই লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ সম্প্রতি এক বড় ঘোষণা দিয়েছে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, এখন থেকে পরিবারে তৃতীয় সন্তানের জন্মের জন্য এককালীন ৩০,০০০ রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০,০০০ রুপি নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ভিন্ন নিয়ম থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন সংশোধন আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে আমরা পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি।

কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা শিশুদের দেশের সম্পদ হিসেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। একইভাবে উত্তরপূর্বের ছোট রাজ্য সিকিমও জন্মহার বাড়াতে নানামুখী প্রণোদনা দিচ্ছে। সেখানে পরিবারগুলোকে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি ও আইভিএফ (ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের মূল উৎস ও শক্তিশালী হিন্দু গোষ্ঠীরাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস)-ও বড় পরিবার গঠনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে সতর্ক করে বলেছেন, আমরা ভারতকে তরুণদের দেশ বলি, কিন্তু ধীরে ধীরে প্রজনন হার কমে আসছে। এই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতা ভবিষ্যতে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।

তবে একদিকে জন্মহার বাড়ানোর এই তোড়জোড় চললেও অন্যদিকে দেশটিতে উচ্চ যুব বেকারত্ব এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩.১ শতাংশ হলেও ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রায় ৯.৯ শতাংশ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এই যুব বেকারত্ব ১৩.৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এর আগে চীন, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোও জন্মহার কমানোর নীতি থেকে সরে এসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির নীতিতে ফিরেছিল, এবার সেই একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে ভারত। সূত্র : রয়টার্স

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ 

ভারতে জনসংখ্যা বাড়াতে নগদ টাকা ও ছুটির ঘোষণা রাজ্য সরকারের

আপডেট সময় ০১:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বর্তমানে ১.৪২ বিলিয়ন জনসংখ্যা নিয়ে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হলেও, দেশটিতে জন্মহার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং জনসংখ্যায় বার্ধক্য ও অর্থনৈতিক চাপ এড়াতে এখন বড় পরিবার গঠনের পক্ষে জোর দিচ্ছেন ভারতের নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাসীন দলের মিত্ররা। ছোট পরিবার গঠনের পুরনো নীতি থেকে সরে এসে দম্পতিদের বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে নগদ অর্থ ও দীর্ঘ ছুটির মতো বড় বড় প্রণোদনা ঘোষণা করছে দেশটির বেশ কিছু রাজ্য সরকার।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতে প্রয়োজনীয় প্রজনন হার ২.১ থাকা দরকার। কিন্তু নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ও গর্ভনিরোধকের ব্যবহার বাড়ায় এই হার ১৯৯২ সালের ৩.৪ থেকে কমে বর্তমানে ২এ নেমে এসেছে। যদিও জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দশকে ভারতের জনসংখ্যা ১.৭ বিলিয়নে গিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাবে, তবু এখনই জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও হিন্দু গোষ্ঠীগুলো।

এই লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ সম্প্রতি এক বড় ঘোষণা দিয়েছে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, এখন থেকে পরিবারে তৃতীয় সন্তানের জন্মের জন্য এককালীন ৩০,০০০ রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০,০০০ রুপি নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ভিন্ন নিয়ম থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন সংশোধন আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে আমরা পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি।

কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা শিশুদের দেশের সম্পদ হিসেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। একইভাবে উত্তরপূর্বের ছোট রাজ্য সিকিমও জন্মহার বাড়াতে নানামুখী প্রণোদনা দিচ্ছে। সেখানে পরিবারগুলোকে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি ও আইভিএফ (ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের মূল উৎস ও শক্তিশালী হিন্দু গোষ্ঠীরাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস)-ও বড় পরিবার গঠনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে সতর্ক করে বলেছেন, আমরা ভারতকে তরুণদের দেশ বলি, কিন্তু ধীরে ধীরে প্রজনন হার কমে আসছে। এই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতা ভবিষ্যতে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।

তবে একদিকে জন্মহার বাড়ানোর এই তোড়জোড় চললেও অন্যদিকে দেশটিতে উচ্চ যুব বেকারত্ব এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩.১ শতাংশ হলেও ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রায় ৯.৯ শতাংশ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এই যুব বেকারত্ব ১৩.৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এর আগে চীন, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোও জন্মহার কমানোর নীতি থেকে সরে এসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির নীতিতে ফিরেছিল, এবার সেই একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে ভারত। সূত্র : রয়টার্স