ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে না দিলে জনগণ খুলে দেবে: নাহিদ আগামী চার বছর কেউ ভাঙতে পারবে না ব্রাজিলের এই বিশ্বরেকর্ড ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় প্রকাশ, কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা হাসনাত-সারজিস অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে নাকি দরবেশ বাবাকে বাঁচাতে দুদকে গিয়েছিলো?: রাশেদ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে নিখোঁজের ৫০ দিন পর রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ দীপিকা-ক্যাটরিনাকে ছাড়িয়ে শীর্ষে আলিয়া ভাট বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা: ৯ জুলাই চিরবিদায় খামেনির

খামেনির ‘ইনার সার্কেল’ ভেঙে পড়ছে, নেতৃত্বে নিঃসঙ্গতায় ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • ২৬১৪ বার পড়া হয়েছে

একের পর এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা উপদেষ্টারা। এর ফলে ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা এক নিঃসঙ্গ রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রধান আমির আলী হাজিজাদে এবং গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হয়েছেন। এঁরা সবাই খামেনির ‘ইনার সার্কেল’-এর অংশ ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল ও আঞ্চলিক নীতিমালা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সাধারণত খামেনির এই অন্তরঙ্গ মহল ১৫-২০ জন উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত। সূত্রমতে, এই মুহূর্তে খামেনি ভয়াবহ নিঃসঙ্গতায় রয়েছেন এবং ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বেড়েছে।

বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাটাঙ্কা বলেন, “খামেনি একগুঁয়ে হলেও অত্যন্ত সতর্ক। তাঁর লক্ষ্য ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা নিশ্চিত করা।”

এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও খামেনি পুরোপুরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছেন। বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সংস্থায় তাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ রয়েছে। প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাঁর দপ্তরের অনুমোদন অপরিহার্য।

উপদেষ্টাদের শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে এসেছেন খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা মোজতবা এখন মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তিনি হয়তো তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এছাড়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন আলী আসগর হেজাজি, মোহাম্মদ গোলপায়েগানি, আলী আকবর ভেলায়েতি এবং কামাল খারাজি। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা নীতিনির্ধারণে আইআরজিসি নেতাদের শূন্যতা এখন স্পষ্ট।

ইসরায়েলের হামলা শুধু ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং সরাসরি নেতৃত্ব কাঠামোকেও টার্গেট করছে। ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছেন গত সেপ্টেম্বরে এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতা হারিয়েছেন গত ডিসেম্বরে।

এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইরানে খামেনির ভঙ্গুর উপদেষ্টা কাঠামো তাঁর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে না দিলে জনগণ খুলে দেবে: নাহিদ

খামেনির ‘ইনার সার্কেল’ ভেঙে পড়ছে, নেতৃত্বে নিঃসঙ্গতায় ইরান

আপডেট সময় ০৫:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

একের পর এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা উপদেষ্টারা। এর ফলে ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা এক নিঃসঙ্গ রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রধান আমির আলী হাজিজাদে এবং গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হয়েছেন। এঁরা সবাই খামেনির ‘ইনার সার্কেল’-এর অংশ ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল ও আঞ্চলিক নীতিমালা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সাধারণত খামেনির এই অন্তরঙ্গ মহল ১৫-২০ জন উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত। সূত্রমতে, এই মুহূর্তে খামেনি ভয়াবহ নিঃসঙ্গতায় রয়েছেন এবং ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বেড়েছে।

বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাটাঙ্কা বলেন, “খামেনি একগুঁয়ে হলেও অত্যন্ত সতর্ক। তাঁর লক্ষ্য ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা নিশ্চিত করা।”

এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও খামেনি পুরোপুরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছেন। বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সংস্থায় তাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ রয়েছে। প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাঁর দপ্তরের অনুমোদন অপরিহার্য।

উপদেষ্টাদের শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে এসেছেন খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা মোজতবা এখন মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তিনি হয়তো তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এছাড়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন আলী আসগর হেজাজি, মোহাম্মদ গোলপায়েগানি, আলী আকবর ভেলায়েতি এবং কামাল খারাজি। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা নীতিনির্ধারণে আইআরজিসি নেতাদের শূন্যতা এখন স্পষ্ট।

ইসরায়েলের হামলা শুধু ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং সরাসরি নেতৃত্ব কাঠামোকেও টার্গেট করছে। ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছেন গত সেপ্টেম্বরে এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতা হারিয়েছেন গত ডিসেম্বরে।

এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইরানে খামেনির ভঙ্গুর উপদেষ্টা কাঠামো তাঁর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।