প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুটি অধ্যাদেশ খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মকর্তারা আইন ও বিধি ভঙ্গ করলে শাস্তির আওতায় আনা যাবে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব এ তথ্য জানান।
নির্বাচন কর্মকর্তা সংক্রান্ত আইন (বিশেষ প্রধান আইন, ১৯৯১) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন (২০০৯) সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের আদেশ অমান্য করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। গুরুতর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।
এছাড়া অসদাচরণের জন্য কমিশন দুই মাসের জন্য কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখবে। শাস্তির তথ্য তার সার্ভিসবুক ও বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ থাকবে। সরকারের সঙ্গে কমিশনের বিরোধ হলে কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রধান্য পাবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯-এ সংশোধন করে ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া এনবিআরের প্রস্তাবিত অর্থসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদন করা হয়েছে, যেখানে ভ্যাট, আয়কর ও সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত করের হার পরিবর্তনসহ কিছু কর সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা সব সংস্কারের তালিকার প্রোফাইল তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ৭৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৪টি বাস্তবায়িত, ১৪টি আংশিক বাস্তবায়িত এবং বাকি ৩৯টি দ্রুতগতিতে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে চার রাজনৈতিক নেতা এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র সফরে অংশ নিচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























