এবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নগরজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে দুই শতাধিক চেকপোস্ট। পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালাচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহলও। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত আটটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পরপরই নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করে। চেকপোস্টগুলোতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদও করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুই শতাধিক চেকপোস্ট পরিচালনা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মুখেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। এসব পথে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়া যানবাহন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রাত থেকে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তাদের টহলও বাড়ানো হয়েছে। নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য জানানো হয়। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৪৭টি মামলা করা হয়েছে।
ডিএমপির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩০ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৪ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭৬ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯২ জন, মিরপুর বিভাগে ১২০ জন, গুলশান বিভাগে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৬ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১৬ জন রয়েছেন। অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১০টি গুলি। এছাড়া তিনটি চাপাতি, পাঁচটি চাকু, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ এবং ৫৩টি লোহার পেরেক উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা এবং ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি তিন বোতল মদ ও ২০ ক্যান বিয়ারও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















