শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানায় বিএনপির সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর হাজতে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের তোলা বেশ কিছু ছবিতে দেখা যায়—সাজাপ্রাপ্ত আসামি লিটন হাওলাদার (৪৮) থানার কক্ষে খাটে বসে সিগারেট হাতে মোবাইলে কথা বলছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাগেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটন হাওলাদার একটি মামলায় এক বছর দুই মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ওসি মাকসুদ আলমের নেতৃত্বে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে তাকে হাজতের সাধারণ কক্ষের পরিবর্তে ব্যারাক থেকে আনা খাটে ‘ভিআইপি বিছানা’ দেওয়া হয় এবং মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।
ওসি মাকসুদ আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তিনি অসুস্থ দাবি করায় তাকে হাজতখানায় থাকার ব্যবস্থা করেছি। কে বা কারা বিছানা দিয়েছে আমার জানা নেই, খতিয়ে দেখব।” তিনি স্বীকার করেন, “মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, ভুল ত্রুটি আমারও হতে পারে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) তানভীর হোসেন বলেন, আসামি অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার বিধান রয়েছে, থানা হাজতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নয়। “মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ কীভাবে হলো তা খতিয়ে দেখা হবে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















