জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু ছাত্ররাজনীতিতেই নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এক নতুন মোড়ের ইঙ্গিত বহন করছে।

অনলাইন ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর সাংবাদিক জান্নাতুল নাঈম পিয়াল লিখেছেন, এ জয় হঠাৎ করে তরুণদের ইসলামপন্থার প্রতি আকর্ষণ নয়; বরং প্রজন্ম জেডের মধ্যে কৌশলগত ভোটদানের প্রবণতার প্রতিফলন। বহু শিক্ষার্থী স্বীকার করেছেন, তারা আদর্শ নয়, বাস্তবতা বিবেচনায় ভোট দিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠনগুলোকে শিবিরের সমান শক্তিশালী মনে হয়নি বলে তাদের ভোট দেওয়া বৃথা বলে মনে করেছেন অনেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর দেশ ছাড়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে একমাত্র সক্রিয় শক্তি হিসেবে শিবির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ও শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তাকে কাজে লাগিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ছাত্রদল, এনসিপির ছাত্রসংগঠন ও বামপন্থী সংগঠনগুলো মূলত দিকহীন হয়ে পড়েছে।

এ প্রবণতা জাতীয় রাজনীতিতেও স্পষ্ট হচ্ছে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৮.৮ শতাংশ তরুণ মনে করছেন বিএনপি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে জিতবে, আর ২১.৫ শতাংশ উত্তরদাতা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানে একে ‘সেলফ-ফুলফিলিং প্রোফেসি’ বলা হয়। তরুণ ভোটারদের মধ্যে “অর্থবহ ভোট” দেওয়ার মানসিকতা ছোট দল, স্বতন্ত্র বা নতুন শক্তিগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কার্যত বিএনপি বনাম অন্য সবার মধ্যে সীমিত হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সব ভোটারকে অনুপ্রাণিত করার প্রয়োজন নেই; শুধু এই বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে যে তারাই একমাত্র কার্যকর বিকল্প। এই বিশ্বাসই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।