ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের গুম বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ফেরানোর দাবি আখতারের শেখ হাসিনার ফেরা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা ‘যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে পারে আবার ঢুকতেও পারে’ ‘দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়, না কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয় জামায়াতের লং মার্চ অযৌক্তিক হলেও সরকার সহযোগিতা করবে: রাশেদ খাঁন বিএনপি সরকার গুমের ঘটনার তদন্ত চায় না: নাহিদ ইসলাম ‘শখ জাগছে, একটা জ্যাতা পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি’— ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি ‘জিন্নাহর বাবা ছিলেন হিন্দু, করতেন মাছ বিক্রি’, দাবি ফজলুর রহমানের ছাড়পোকা দমনে ডাকসুর ব্যয় ৩২ লাখ: এবি জুবায়ের ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৭, মৃত্যু নেই

‘দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়, না কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়। আর কেউ কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্ম ব্যবসা এক নয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৮টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন সিনিয়র মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে, তোমরা এ পথে যেও না। তোমরা জ্ঞান অর্জন করো। পোশাক ও ভাষাই শুধু মানুষের প্রকৃতি নির্ধারণ করে না। পাঞ্জাবি, পায়জামা আর টুপি পড়লেই কেউ আলেম হয় না, আলেম হতে গেলে এলেম জানতে হয়।

ক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করছেন তারা এ বিষয়টা মানবেন যে- আমি সত্য কথা বলব, ন্যায়ের পথে চলব, আল্লাহ-রাসুলের দেখানো পথে চলব, কিন্তু ধর্মব্যবসা করব না।

তরুণদের উদ্দেশে ফজলুর রহমান বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলো। সত্য কথা বলো। অন্ধকারকে আলোকিত করার জন্য অন্ধকারে একটা মোমবাতি হলেও জ্বালাও।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধই সত্য, রাজাকার আলবদররা হলো অভিশপ্ত।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালে বোম্বেতে জন্মগ্রহণ করেন। সেই গুজরাটের একটা খোজা পরিবারে, যারা মাছ বিক্রি করত। তবে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রে তার পরিবারকে গুজরাটের প্যানেলি গ্রামের মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরে তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯২৯ সালে তার ঘোষিত ১৪ দফায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দাবি ছিল। তার ভাষ্য, ১৪ দফা দিল, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি করল, জিন্নাহ একটা পাকিস্তান বানাইলো।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতাদের ভূমিকার প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানাইছিলাম, আমরা তো অস্বীকার করি না। কিন্তু বানাইয়া যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ৫২ সালেই আমরা ফাইট শুরু করলাম।

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ধর্মীয় জাতীয় সত্ত্বায় নয়, আমরা নৃতাত্ত্বিক জাতীয় সত্ত্বায়, ভাষাভিত্তিক জাতীয় সত্ত্বায় আমরা দেশ বানাইতে চাই।

তিনি বলেন, ৫২ সনের ভাষা আন্দোলন এবং তার পথ ধরে ৫৪র ইলেকশন, ৫৮র আইয়ুব খানের শাসন। এরপর ছয় দফা, ১১ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলন এগিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে এবং রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারসহ প্রমুখ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের

‘দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়, না কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়

আপডেট সময় ০৮:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়। আর কেউ কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্ম ব্যবসা এক নয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৮টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন সিনিয়র মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে, তোমরা এ পথে যেও না। তোমরা জ্ঞান অর্জন করো। পোশাক ও ভাষাই শুধু মানুষের প্রকৃতি নির্ধারণ করে না। পাঞ্জাবি, পায়জামা আর টুপি পড়লেই কেউ আলেম হয় না, আলেম হতে গেলে এলেম জানতে হয়।

ক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করছেন তারা এ বিষয়টা মানবেন যে- আমি সত্য কথা বলব, ন্যায়ের পথে চলব, আল্লাহ-রাসুলের দেখানো পথে চলব, কিন্তু ধর্মব্যবসা করব না।

তরুণদের উদ্দেশে ফজলুর রহমান বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলো। সত্য কথা বলো। অন্ধকারকে আলোকিত করার জন্য অন্ধকারে একটা মোমবাতি হলেও জ্বালাও।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধই সত্য, রাজাকার আলবদররা হলো অভিশপ্ত।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালে বোম্বেতে জন্মগ্রহণ করেন। সেই গুজরাটের একটা খোজা পরিবারে, যারা মাছ বিক্রি করত। তবে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রে তার পরিবারকে গুজরাটের প্যানেলি গ্রামের মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরে তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯২৯ সালে তার ঘোষিত ১৪ দফায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দাবি ছিল। তার ভাষ্য, ১৪ দফা দিল, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি করল, জিন্নাহ একটা পাকিস্তান বানাইলো।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতাদের ভূমিকার প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানাইছিলাম, আমরা তো অস্বীকার করি না। কিন্তু বানাইয়া যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ৫২ সালেই আমরা ফাইট শুরু করলাম।

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ধর্মীয় জাতীয় সত্ত্বায় নয়, আমরা নৃতাত্ত্বিক জাতীয় সত্ত্বায়, ভাষাভিত্তিক জাতীয় সত্ত্বায় আমরা দেশ বানাইতে চাই।

তিনি বলেন, ৫২ সনের ভাষা আন্দোলন এবং তার পথ ধরে ৫৪র ইলেকশন, ৫৮র আইয়ুব খানের শাসন। এরপর ছয় দফা, ১১ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলন এগিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে এবং রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারসহ প্রমুখ।