ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আ. লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা-প্রশ্নে আ স ম ফিরোজ বললেন, ‘আমি মনে করি না’ ফাঁসির আতঙ্কে আ.লীগের পলাতক নেতারা, হাসিনার সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার হুঁশিয়ারি আলোচনা না করে ভাইভায় নম্বর বাড়ালে কঠোর আন্দোলন: হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের সরকার বলছে সারের সংকট নেই, কৃষক সার পাচ্ছে না কেন—বিরোধী দলের প্রশ্ন আড়াই বছরের মেয়েকে রেখে চিরবিদায় সেনাসদস্য রিফাতের, গ্রামজুড়ে শোকের মাতম ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান টুকুর ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান টুকুর জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না: স্পিকার ইবি শিবির নেতাকে থাপ্পড়ের জেরে সংঘর্ষ, অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী হলের অবৈধ শিক্ষার্থী

যারা ইংরেজিতে কথা বলেন, তারা খুব শিগগিরই লজ্জা অনুভব করবেন: অমিত শাহ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • ৫৯৯ বার পড়া হয়েছে

‘যারা ইংরেজিতে কথা বলেন, তারা খুব শিগগিরই তা নিয়ে লজ্জা অনুভব করবেন’—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার ফের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, সময় এসেছে ভারতকে উপনিবেশিক ছাপ থেকে মুক্ত করে নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্যের প্রতি গর্ববোধ জাগিয়ে তোলার।

নয়াদিল্লিতে প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা আশুতোষ অগ্নিহোত্রীর লেখা বই ‘ম্যাঁ বুন্দ স্বয়ং, খুদ সাগর হুঁ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘আমাদের দেশের ভাষাগুলোই আমাদের সংস্কৃতির রত্ন। ভাষাহীন ভারত মানে আত্মবিচ্ছিন্ন ভারত। যারা পরিবর্তন ঘটাতে সংকল্পবদ্ধ, তারাই পারে এই সমাজ গড়তে—যেখানে বিদেশি ভাষার প্রতি মোহ নয়, নিজের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে।’

অমিত শাহ বলেন, ‘ভারত, এর ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্ম—এসব কিছুই বোঝার জন্য বিদেশি ভাষা যথেষ্ট নয়। আধা-সিদ্ধ ইংরেজিতে প্রকৃত ভারত বোঝা সম্ভব নয়। এই লড়াই কঠিন, কিন্তু আমি নিশ্চিত—ভারতীয় সমাজই এই যুদ্ধে জিতবে।’ তিনি বলেন, ‘আত্মসম্মান ফিরে পেতে হলে নিজেদের ভাষায় দেশ পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে ভারতীয় ভাষা দিয়েই।’

সাহিত্য প্রসঙ্গে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন দেশ ছিল চরম অন্ধকারে, তখনও আমাদের ধর্ম, স্বাধীনতা আর সংস্কৃতির আলো জ্বালিয়ে রেখেছিল সাহিত্য। শাসক বদলেছে, প্রশাসন বদলেছে, কিন্তু যখনই কেউ আমাদের ধর্ম বা সংস্কৃতির ওপর হাত দিয়েছে—জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। কারণ সাহিত্য আমাদের সমাজের আত্মা।’

এই বক্তব্যের মাধ্যমে অমিত শাহ কেবল ভাষাগত ইস্যু নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটিকে সামনে আনলেন। তার মতে, ইংরেজি জ্ঞানের হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু পরিচয়ের মূল নয়। ২০৪৭-এ ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষে দাঁড়িয়ে ভারতকে তিনি দেখতে চান এক আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে—যারা নিজ ভাষায় কথা বলে, নিজ সংস্কৃতিকে লালন করে, এবং বিশ্বমঞ্চে দাঁড়ায় নিজের পরিচয়ে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আ. লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা-প্রশ্নে আ স ম ফিরোজ বললেন, ‘আমি মনে করি না’

যারা ইংরেজিতে কথা বলেন, তারা খুব শিগগিরই লজ্জা অনুভব করবেন: অমিত শাহ

আপডেট সময় ০৩:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

‘যারা ইংরেজিতে কথা বলেন, তারা খুব শিগগিরই তা নিয়ে লজ্জা অনুভব করবেন’—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার ফের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, সময় এসেছে ভারতকে উপনিবেশিক ছাপ থেকে মুক্ত করে নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্যের প্রতি গর্ববোধ জাগিয়ে তোলার।

নয়াদিল্লিতে প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা আশুতোষ অগ্নিহোত্রীর লেখা বই ‘ম্যাঁ বুন্দ স্বয়ং, খুদ সাগর হুঁ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘আমাদের দেশের ভাষাগুলোই আমাদের সংস্কৃতির রত্ন। ভাষাহীন ভারত মানে আত্মবিচ্ছিন্ন ভারত। যারা পরিবর্তন ঘটাতে সংকল্পবদ্ধ, তারাই পারে এই সমাজ গড়তে—যেখানে বিদেশি ভাষার প্রতি মোহ নয়, নিজের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে।’

অমিত শাহ বলেন, ‘ভারত, এর ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্ম—এসব কিছুই বোঝার জন্য বিদেশি ভাষা যথেষ্ট নয়। আধা-সিদ্ধ ইংরেজিতে প্রকৃত ভারত বোঝা সম্ভব নয়। এই লড়াই কঠিন, কিন্তু আমি নিশ্চিত—ভারতীয় সমাজই এই যুদ্ধে জিতবে।’ তিনি বলেন, ‘আত্মসম্মান ফিরে পেতে হলে নিজেদের ভাষায় দেশ পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে ভারতীয় ভাষা দিয়েই।’

সাহিত্য প্রসঙ্গে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন দেশ ছিল চরম অন্ধকারে, তখনও আমাদের ধর্ম, স্বাধীনতা আর সংস্কৃতির আলো জ্বালিয়ে রেখেছিল সাহিত্য। শাসক বদলেছে, প্রশাসন বদলেছে, কিন্তু যখনই কেউ আমাদের ধর্ম বা সংস্কৃতির ওপর হাত দিয়েছে—জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। কারণ সাহিত্য আমাদের সমাজের আত্মা।’

এই বক্তব্যের মাধ্যমে অমিত শাহ কেবল ভাষাগত ইস্যু নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটিকে সামনে আনলেন। তার মতে, ইংরেজি জ্ঞানের হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু পরিচয়ের মূল নয়। ২০৪৭-এ ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষে দাঁড়িয়ে ভারতকে তিনি দেখতে চান এক আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে—যারা নিজ ভাষায় কথা বলে, নিজ সংস্কৃতিকে লালন করে, এবং বিশ্বমঞ্চে দাঁড়ায় নিজের পরিচয়ে।