ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতে কেন এত ‘স্লিপ অব টাং’? মুখ খুললেই নতুন বিতর্ক প্রধানমন্ত্রীর একজন সহকর্মী রয়েছেন, যাকে “সর্বমন্ত্রী” বলা হয় ‘ভারতে প্রবেশের পর থেকে’ নিখোঁজ ডিপজল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত, বাতিল জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা হলে জনগণ হিমালয় হয়ে দাঁড়াবে’—ডা. শফিকুর রহমান ‘শুধু হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়’—ইসরায়েলকে কড়া বার্তা জেডি ভ্যান্সের সাকলায়েনের বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে ফের আলোচনায় পরীমনির পুরোনো মন্তব্য খুব শিগগিরই ইতিহাসের সবথেকে ঘৃণ্য বিরোধীদল জামায়াতের পতন হবে: রাশেদ খাঁন ১৩,৩৪৪ জুলাই যোদ্ধা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

তবে এই বৃদ্ধির আগে টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছিল। ২০২৩ সালের শেষে আমানতের পরিমাণ নেমে আসে মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা ছিল গত ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ধারাবাহিকভাবে আমানতের পরিমাণ আবার বাড়তে শুরু করে।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ সেই রেকর্ডের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি সুইস ফ্রাঁ অতিক্রম করে। সে বছর আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২৪ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী কয়েক বছরে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের বছরে তা আবার বেড়ে ৬১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয় এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে উন্নীত হয়।

তবে ২০২২ সালে আমানতের পরিমাণ হঠাৎ কমে ৫ কোটি ৫২ লাখ এবং ২০২৩ সালে আরও কমে ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে আসে। এরপর গত দুই বছরে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সুইস ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা নীতি। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিদেশি আমানতকারীদের তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

তবে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অংশের অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত বা বিদেশে পাচার করা সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসএনবির প্রকাশিত তথ্য থেকে আমানতকারীদের পরিচয় বা অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে কেন এত ‘স্লিপ অব টাং’? মুখ খুললেই নতুন বিতর্ক

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৩:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

তবে এই বৃদ্ধির আগে টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছিল। ২০২৩ সালের শেষে আমানতের পরিমাণ নেমে আসে মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা ছিল গত ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ধারাবাহিকভাবে আমানতের পরিমাণ আবার বাড়তে শুরু করে।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ সেই রেকর্ডের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি সুইস ফ্রাঁ অতিক্রম করে। সে বছর আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২৪ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী কয়েক বছরে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের বছরে তা আবার বেড়ে ৬১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয় এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে উন্নীত হয়।

তবে ২০২২ সালে আমানতের পরিমাণ হঠাৎ কমে ৫ কোটি ৫২ লাখ এবং ২০২৩ সালে আরও কমে ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে আসে। এরপর গত দুই বছরে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সুইস ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা নীতি। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিদেশি আমানতকারীদের তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

তবে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অংশের অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত বা বিদেশে পাচার করা সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসএনবির প্রকাশিত তথ্য থেকে আমানতকারীদের পরিচয় বা অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় না।