চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রতিদিনই চুরি, ছিনতাই, অপহরণ ও ডাকাতির মতো অপরাধ ঘটছে। চাঁদাবাজি, জমি দখল-বেদখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ বা মামলা করতে গেলেও প্রমাণ হিসেবে আগাম সাক্ষী ও ভিডিও ফুটেজ দাবি করা হয়, নতুবা মামলা নেওয়া হয় না। অনেক সময় অভিযোগ আড়াল করে ভিন্নভাবে লিখে মামলা দায়ের করা হয়, ফলে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি হাইদগাঁওয়ে এক নারীকে মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থানায় জমা দিতে গেলে ডিউটি অফিসার তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। পরে ওসির কাছে গেলে তিনি আগাম ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষী ছাড়া মামলা নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। শুক্রবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ওসি নুরুজ্জামান সাংবাদিককে ‘বাড়াবাড়ি না করার’ হুমকি দেন।
এ ছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভাটিখাইনে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির ঘটনায় খামারের পক্ষ থেকে ৮-১০ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও পুলিশ অভিযোগ পাল্টে ৪ জনের নামে ছিনতাই দস্যুতার মামলা নেয়। খামারের কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আইনের জটিলতা বোঝেন না, পুলিশ তাদের অভিযোগই পরিবর্তন করে নেয়।
পটিয়ায় প্রতিদিনই ছিনতাই ও অপরাধের ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবারও দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়রা ছয়জনকে আটক করে। নিখোঁজ হন সরকারি কলেজের এক নবীন ছাত্রী। এর আগে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম আরজুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়, পরে গ্রামে ফেলে যায় অপহরণকারীরা। একই মাসে রিকশাচালক মো. শহীদ ছিনতাইকারীর হাতে খুন হন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সন্ধ্যার পর পটিয়ার বাইপাস ও বিভিন্ন পয়েন্ট অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে ‘অপরাধের স্বর্গরাজ্যে’ পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় সুমনের নেতৃত্বে নিয়োগ করা হয়েছে ক্যাশিয়ার, যারা টাকা তোলার দায়িত্বে রয়েছে।
অপহরণের শিকার ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম আরজু জানান, তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিতে পারায় তাকে মারধরও করা হয়। ওসি নুরুজ্জামান ডাকাতির মামলার অভিযোগ পাল্টে ছিনতাই মামলা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আগাম সাক্ষী বা ভিডিও ছাড়া মামলা না নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিককে হুমকি দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















