ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ সাগরকন্যা কুয়াকাটায় দেখা মিলছে ঝিনুকের ‘সাদা গালিচা’, মুগ্ধ পর্যটকরা এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে: বিরোধী দলের উদ্দেশ্য এ্যানি অবশেষে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর জুলাই থেকেই জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলামের আহ্বানে জাতি সাড়া দিচ্ছে না: রাশেদ খান জঙ্গলে মিলল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন শি জিনপিং, অভ্যর্থনা জানাবেন ট্রাম্প নিজেই ১০ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার, বসেছে দুইশ’র বেশি চেকপোস্ট ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনা বেশ সাড়া ফেলেছিল। এ ঘটনা নেপথ্যে কী তা নিয়ে প্রায় তিন মাস তদন্ত হয়। তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ লাল টেলিফোনের তার কাটা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় জড়িতদের ধাপে ধাপে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অন্য তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে চুরির নেপথ্যে ভিন্ন উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক কোনো তথ্য মেলেনি। জিজ্ঞাসাবাদসহ সার্বিক তথ্য প্রমাণে এটি শুধু চুরির ঘটনা হিসাবেই প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনার নেপথ্যে কোনো সন্দেহজনক তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যআলামত বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ওই টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)

তারা হলোআউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম ও মো. মাহাবুব হাসান। তবে তারা ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছে। এ বিষয়ে সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান বলেন, যাবতীয় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এটি শুধু চুরির ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তিনজনকে চুরির মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, গত কুরবানি ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ নেই। পরে টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় জিডি করেন। জিডিতে হয়, সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল (তার) ছিল।

এই কেবলের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। পরে শাহবাগ থানায় মামলা করা হলে রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে চুরির মাল কেনার দায়ে মাহাবুব হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় কারাগারে থাকা সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার জামিন দিয়েছেন আদালত। এর আগে অন্য দুই অভিযুক্ত জামিন পান। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ধলেশ্বরী কোম্পানির অধীনে আউটসোর্সিংয়ে ২০০ টাকা মজুরিতে পরিষ্কারক হিসাবে সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন রঞ্জন চন্দ্র। গত ২২ মে সকালে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদে ময়লা পরিষ্কার করার সময় রঞ্জন টেলিফোনের তামার তার এন্ট্রি কাটার ব্লেড দিয়ে কেটে নেয়।

পরে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ওই তার তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স নামে ভাঙারির দোকানে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। সেখান থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামা উদ্ধার করা হয়। পরে মাহাবুব হাসান নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৪ কেজি ২০০ গ্রাম চোরাই তার জব্দ করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা জানান, ছাদে অনেক লম্বা তার প্যাঁচানো অবস্থায় সচল ছিল। জড়িত রঞ্জন এতগুলো তামার মূল্যবান তার দেখে লোভ সামলাতে পারেনি। সে একইভাবে আগেও ছোটখাটো মালামাল চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তারের বিষয়টি তার ধারণার বাইরে ছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ

আপডেট সময় ০৩:২২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনা বেশ সাড়া ফেলেছিল। এ ঘটনা নেপথ্যে কী তা নিয়ে প্রায় তিন মাস তদন্ত হয়। তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ লাল টেলিফোনের তার কাটা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় জড়িতদের ধাপে ধাপে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অন্য তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে চুরির নেপথ্যে ভিন্ন উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক কোনো তথ্য মেলেনি। জিজ্ঞাসাবাদসহ সার্বিক তথ্য প্রমাণে এটি শুধু চুরির ঘটনা হিসাবেই প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনার নেপথ্যে কোনো সন্দেহজনক তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যআলামত বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ওই টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)

তারা হলোআউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম ও মো. মাহাবুব হাসান। তবে তারা ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছে। এ বিষয়ে সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান বলেন, যাবতীয় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এটি শুধু চুরির ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তিনজনকে চুরির মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, গত কুরবানি ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ নেই। পরে টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় জিডি করেন। জিডিতে হয়, সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল (তার) ছিল।

এই কেবলের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। পরে শাহবাগ থানায় মামলা করা হলে রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে চুরির মাল কেনার দায়ে মাহাবুব হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় কারাগারে থাকা সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার জামিন দিয়েছেন আদালত। এর আগে অন্য দুই অভিযুক্ত জামিন পান। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ধলেশ্বরী কোম্পানির অধীনে আউটসোর্সিংয়ে ২০০ টাকা মজুরিতে পরিষ্কারক হিসাবে সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন রঞ্জন চন্দ্র। গত ২২ মে সকালে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদে ময়লা পরিষ্কার করার সময় রঞ্জন টেলিফোনের তামার তার এন্ট্রি কাটার ব্লেড দিয়ে কেটে নেয়।

পরে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ওই তার তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স নামে ভাঙারির দোকানে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। সেখান থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামা উদ্ধার করা হয়। পরে মাহাবুব হাসান নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৪ কেজি ২০০ গ্রাম চোরাই তার জব্দ করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা জানান, ছাদে অনেক লম্বা তার প্যাঁচানো অবস্থায় সচল ছিল। জড়িত রঞ্জন এতগুলো তামার মূল্যবান তার দেখে লোভ সামলাতে পারেনি। সে একইভাবে আগেও ছোটখাটো মালামাল চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তারের বিষয়টি তার ধারণার বাইরে ছিল।